মেয়ের শূন্যতা সম্পর্কে জানতে চাইলে আবেগাপ্লুত হয়ে শিরিনা আক্তার বলেন, ‘তিন বছর আমি আমার মেয়ের কণ্ঠে মা ডাকটি শুনতে পাই না। রাতে ঘুম হয় না। ঠিকমতো খেতে পারি না।’

সোনাগাজী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর চর চান্দিয়া এলাকায় নুসরাত জাহানের বাড়ি। টিনশেড, চার কক্ষবিশিষ্ট ঘরের ঢুকতেই দ্বিতীয় কক্ষে থাকতেন নুসরাত। সেই কক্ষের বিভিন্ন স্থানে এখনো নুসরাতের হাতের বিভিন্ন ধরনের লেখা স্মৃতি হিসেবে রয়েছে। সেই কক্ষে তাঁর মা ঘুমান। প্রতিদিন সকালে ও বিকেলে নুসরাতের বিছানায় বসে কোরআন তিলাওয়াত করে মেয়ের জন্য দোয়া করেন তিনি।

২০১৯ সালে ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় তাঁর মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী থানায় মামলা করলে পুলিশ অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করে। মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেন বোরকা পরা পাঁচজন। এ ঘটনায় ৮ এপ্রিল তাঁর ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান আটজনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা করেন।

২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুন্যালের বিচারক মামুনুর রশিদ এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন, পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম ও মাদ্রাসার ইংরেজির প্রভাষক আবছার উদ্দিনসহ ১৬ আসামিকে ফাঁসির রশিতে ঝুলিয়ে মৃত্যু কার্যকর করার আদেশ দেন। পাশাপাশি প্রত্যেক আসামিকে এক লাখ টাকা করে জরিমানারও আদেশ দেন। রায়ে সন্তুষ্ট হয়ে প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায় নুসরাতের পরিবার।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শাহ জাহান বলেন, ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর আসামিদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য (ডেথ রেফারেন্স) মামলার যাবতীয় কার্যক্রম হাইকোর্টে পৌঁছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পেপারবুক (মামলার যাবতীয় নথি) ছাপানো শেষ করা হয়েছিল। শুনানির জন্য মামলাটি প্রধান বিচারপতি বরাবর উপস্থাপন করা হয়। আপিল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির জন্য বেঞ্চ নির্ধারণ করেন প্রধান বিচারপতি। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে শুনানি শুরু হতে দেরি হওয়ায় ওই বেঞ্চ বাতিল হয়ে গেছে। তিনি আশা করছেন, আবার বেঞ্চ গঠন করে মামলার শুনানি শুরু হবে।