default-image

বগুড়ার পুলিশ সুপার (এসপি) সুদীপ কুমার চক্রবর্তী আজ দুপুরে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য তুলে ধরেন। পুলিশ সুপার বলেন, কাহালুর কলমাশিবা এলাকায় দুই দল সন্ত্রাসীর মধ্যে বিরোধ আছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা সন্ত্রাসী দলের সদস্য। তাঁদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।

পুলিশ সুপার বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে কাহালু উপজেলায় কলমাশিবা গ্রামে সিগারেট কিনতে বাড়ি থেকে বের হয়ে একরাম হোসেন নামের এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হন। তিনি বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গুলিবিদ্ধ একরাম হোসেন কলমাশিবা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় রিকশাচালক ও সিমেন্টের খুঁটি প্রস্তুতকারী কারখানার শ্রমিক। এ ঘটনায় একরামের স্ত্রী কুলসুম খাতুন বাদী হয়ে কাহালু থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেছেন। সেই মামলায় একই গ্রামের শামিম হোসেন নামের একজনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

default-image

অভিযানের বর্ণনা দিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, একরাম হোসেন গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার তদন্তে নেমে কাহালু উপজেলার কলমাশিবা গ্রামের নিলু চন্দ্রের বাড়িতে অবৈধ অস্ত্র তৈরির সন্ধান পায় পুলিশ। কাহালু থানা-পুলিশ নীলু চন্দ্রের বাড়ির শৌচাগারসংলগ্ন মাটির নিচ থেকে অস্ত্র তৈরির বিপুল সরঞ্জাম জব্দ করে। গ্রেপ্তার করা হয় নীলু চন্দ্র ও তাঁর ছেলে সঞ্জিত চন্দ্রকে। পরে কাহালু থানা-পুলিশ বাদী হয়ে গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করে। অভিযানে নীলু চন্দ্রের বাড়ি থেকে ব্যারেল, লোহার রিকয়েলিং স্প্রিং, ফায়ারিং পিন, ট্রিগারসহ বন্দুক তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। এসব সরঞ্জাম দিয়ে অন্তত পাঁচটি একনলা বন্দুক তৈরি সম্ভব।

কাহালু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমবার হোসেন বলেন, একরামকে গুলিবিদ্ধ করার ঘটনার তদন্তে নেমে সেখানে অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার ও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে একরামকে গুলি করতে ব্যবহৃত অস্ত্র এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। গ্রেপ্তার নীলু চন্দ্র ও তাঁর ছেলে সঞ্জিত চন্দ্রকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।

বিদেশি পিস্তল–গুলিসহ তরুণ গ্রেপ্তার

default-image

পৃথক অভিযানে বগুড়ার ধুনট উপজেলা থেকে চারটি গুলি, বিদেশি পিস্তলসহ শহিদুল ইসলাম (৩৩) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার দিবাগত রাত তিনটায় ধুনট উপজেলার নিত্তিপোতা মধ্যপাড়া গ্রামের বিলের একটি সেচপাম্পের ঘর থেকে অস্ত্রসহ তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। শহিদুল ইসলাম ওই গ্রামেরই বাসিন্দা।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে বগুড়ার পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী জানান, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে প্রথমে শহিদুল পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ তাঁকে পাকড়াও করে আটকের পর দেহ তল্লাশি করে লুঙ্গির কোচা থেকে চারটি গুলিসহ একটি বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিন উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া পিস্তলের এক পাশে ‘মেড ইন ইউএসএ’ লেখা রয়েছে।

default-image

পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বলেন, গ্রেপ্তার শহিদুলের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে ধনুট থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন