default-image

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাত মাসের সেই কন্যাশিশু জান্নাত পুরোদমে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। আজ রোববার দুপুর ১২টার দিকে মেডিকেল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হলে শিশুটির বাবা তারেক ইসলাম সন্তানকে নিয়ে একটি পিকআপে করে ঠাকুরগাঁও চলে যান। এ সময় পিকআপে চার্জার রিকশাটিও তোলা হয়।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু সার্জারি ওয়ার্ডের কর্তব্যরত চিকিৎসক সহকারী রেজিস্ট্রার উপেন্দ্রনাথ রায় আজ দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, শিশুটির পেটের ভেতর নাড়ি পেঁচিয়ে যাওয়ায় অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। শিশুটি এখন পুরোদমে সুস্থ।

চার্জার রিকশাচালক তারেক ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী সুলতানা বেগমের অভাব-অনটনের সংসার। এরই মধ্যে সাত মাসের শিশুসন্তান অসুস্থ হয়ে পড়ে। প্রথমে ১৩ এপ্রিল তাকে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক পরদিন (১৪ এপ্রিল) রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। কিন্তু এত দূরের পথ কীভাবে যাবেন। হাতে কোনো টাকা নেই যে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করবেন। তার ওপর লকডাউনে গণপরিবহন বন্ধ। অবশেষে সিদ্ধান্ত নেন, নিজেই রিকশা চালিয়ে রংপুরে যাবেন। ১৭ এপ্রিল সকাল ৬টায় ঠাকুরগাঁও থেকে রংপুর দীর্ঘ ১১০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বেলা ৩টায় রংপুরে পৌঁছান তিনি।

আমার থাকার কোনো জায়গা না থাকায় মানুষের দান করা এই টাকা দিয়ে একখণ্ড জমি কিনব।
শিশু জান্নাতের বাবা তারেক ইসলাম
বিজ্ঞাপন
default-image

১১০ কিলোমিটার দীর্ঘ পথ চার্জার রিকশায় করে কন্যাশিশুকে নিয়ে আসার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেই সঙ্গে প্রথম আলোসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবরটি গুরুত্বসহকারে প্রচার পাওয়ায় বিভিন্ন ব্যক্তি, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, সুপারশপ এবং রংপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তাসহ চিকিৎসাসেবায় সহায়তা দেওয়া হয়।

হাসপাতাল থেকে চলে যাওয়ার সময় শিশুটির বাবা তারেক ইসলাম সাংবাদিকদের অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। আজ তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এখন পর্যন্ত প্রায় পাঁচ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন। এ ছাড়া রংপুর নগরে অবস্থিত স্বপ্ন নামের সুপারশপের একটি প্রতিষ্ঠান শিশুটির চিকিৎসাসেবার জন্য যাবাতীয় ব্যয়ভার চালিয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমার থাকার কোনো জায়গা না থাকায় মানুষের দান করা এই টাকা দিয়ে একখণ্ড জমি কিনব।’

রিকশাচালক তারেক ইসলাম ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার দক্ষিণ সালন্দর গ্রামের রামবাবুর গোডাউন এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেনের বড় ছেলে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন