এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে টেকনাফ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেদারুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো ধরনের নির্দেশনা বা চিঠি তিনি পাননি। হাইকোর্টের চিঠি পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ ইসমাইলের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সহসম্পাদক মো. সাইফুর রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন ডিপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. সাইফুর রহমান জানান, গত ২৯ নভেম্বর প্রার্থিতা বাছাইয়ের দিন এসএসসি পাসের মূল সনদ দাখিল না করার অভিযোগে মোহাম্মদ ইসমাইলের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। পরে ৫ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসকের কাছে আপিল করলে তিনি তা খারিজ করে দেন। অবশেষে প্রার্থিতা ফিরে পেতে উচ্চ আদালতের আশ্রয় নেন মোহাম্মদ ইসমাইল। সবকিছু বিবেচনা করে মোহাম্মদ ইসমাইলের প্রার্থিতা বৈধ বলে ঘোষণা দিয়েছেন বিচারক।

২৬ ডিসেম্বর টেকনাফ পৌরসভায় ভোট হওয়ার কথা। মোহাম্মদ ইসমাইল স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন। তাঁর প্রতীক মোবাইল। নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করছেন বর্তমান মেয়র মোহাম্মদ ইসলাম। তিনি এর আগে টানা দুবার মেয়র ছিলেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সাবেক সাংসদ আবদুর রহমান বদির আরেক ভাই আবদুস শুক্কুর মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। মেয়র পদে জাপা প্রার্থী শাহজাহান মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেওয়ায় দুজনের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। এ ছাড়া ৫টি ওয়ার্ডে ১০ জন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর ও ২০ জন পুরুষ কাউন্সিলর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

৬ ডিসেম্বর ছিল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। ওই দিন আর কোনো প্রার্থী না থাকায় নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মেয়র ঘোষণা করা হয়েছিল। একই দিন কাউন্সিলর পদে চারজন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তাঁরা হলেন ৩ নম্বর ওয়ার্ডের এহতেশামুল হক, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মো. আবদুল্লাহ, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মুজিবুর রহমান ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মো. মনিরুজ্জামান। চারজনই বর্তমান কাউন্সিলর।

নাম প্রকাশে না করার শর্তে একাধিক ভোটার জানান, সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র ও স্বতন্ত্র প্রার্থী জামায়াত নেতার প্রার্থিতা হাইকোর্ট থেকে বৈধ ঘোষণার পর নির্বাচন কিছুটা হলেও জমে উঠেছে। চাচাকে জয়ী করতে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন সাবেক সাংসদ বদি। এর মধ্যে তিনি টেকনাফের ইয়াবা কারবারিদের এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন