বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এন্তাজুল হক বলেন, মামলায় আরও দুজন কিশোর আসামি আছে। শিশু আদালতে তাদের বিচার চলছে। এ ছাড়া অন্য চার আসামির বিচার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে শেষ হলো। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে হাজির ছিলেন। রায় ঘোষণার পর তাঁদের রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

২০১৮ সালে রুয়েটসংলগ্ন অগ্রণী স্কুল অ্যান্ড কলেজের দক্ষিণ-পূর্ব পাশে রাস্তার ওপর বাসচালক আবদুস সালামকে কুপিয়ে আহত করা হয়। পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। ঘটনার পরদিন নিহত চালকের বড় ছেলে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে নগরের মতিহার থানায় হত্যা মামলা করেন। ঘটনার চার দিন পর এক কিশোরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যাকাণ্ডের রহস্য বেরিয়ে আসে।

আইনজীবী এন্তাজুল হক বলেন, নৈশপ্রহরী সোহেল রুয়েটের ভেতর আশপাশের কম বয়সী ছেলেদের নিয়ে একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ গঠন করেছিলেন। ওই গ্রুপ রুয়েটের এক কর্মচারীর নাতিকে মারধর করেছিল। এরপর বাসচালক সালামের কাছেই তারা মীমাংসার জন্য গিয়েছিল। সালাম তখন মীমাংসার জন্য চার লাখ টাকা দাবি করেন। বিষয়টি পরে আর মীমাংসা হয়নি। এ কারণেই ক্ষিপ্ত হয়ে চার মাস পর পরিকল্পিতভাবে তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এক কিশোর এসব তথ্য দেয়।

তবে মামলার অন্য কোনো আসামি স্বীকারোক্তি দেননি। এ রায় ঘোষণার আগে আদালত ২৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। হত্যাকাণ্ডে আসামিদের জড়িত থাকার বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। আদালত থেকে বের করার সময় আসামিরা চিৎকার করে রায়ের প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন। তাঁরা হাইকোর্টে যাওয়ার ঘোষণা দিচ্ছিলেন। এ সময় তাঁদের স্বজনেরা কান্নাকাটি করছিলেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী আবু বাকার বলেন, কোনো প্রত্যক্ষদর্শী না থাকা সত্ত্বেও ‘পাইকারিভাবে’ তাঁদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ রায়ে তাঁরা সন্তুষ্ট নন। রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাবে আসামিপক্ষ।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন