বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

রাজশাহী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আহম্মেদ নিয়ামুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, কর্তৃপক্ষ গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। কিন্তু এ জন্য সরকারি বিধি মোতাবেক বন বিভাগের অনুমোদন নেওয়ার প্রয়োজন আছে। এমনকি গাছগুলোর দামও দরপত্রের আগে বন বিভাগ ঠিক করে দেবে। কিন্তু রুয়েট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. সেলিম হোসেন গতকাল বুধবার রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের ৬০০ কোটি টাকার প্রজেক্ট এসেছে। কোথায় বিল্ডিং হবে তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইউজিসি হয়ে প্রধানমন্ত্রী হয়ে অনুমোদন এসেছে। বিল্ডিং করতে গিয়ে দু-চারটা গাছ কাটা পড়বে। আমি বুঝতে পারছি না এখানে সমালোচনার কী আছে!’ উন্নয়নকাজে গাছ কাটা পড়তে পারে, তাই এবার বিশ্ববিদ্যালয়ে এক হাজারের বেশি গাছ লাগানো হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর ধারণা, সরকারবিরোধী কোনো শক্তি মিলিত হয়ে এই কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করছে।

বন বিভাগের অনুমতি না নেওয়ার বিষয়ে রুয়েটের রেজিস্ট্রার মো. সেলিম হোসেন বলেন, এটা একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। প্রথমে রুয়েটের ভেতরের পরিবেশের শিক্ষকসহ অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন শিক্ষক দিয়ে পরিকল্পনাটি রুয়েটে পাস হয়। এরপর এখান থেকে ইউজিসি হয়ে যায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা বিভাগে। তারপর শিক্ষামন্ত্রী হয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেকে এর অনুমোদন হয়। মন্ত্রণালয় থেকে লোক এসে দেখে গেছে। যেহেতু এটা মন্ত্রণালয় থেকে পাস হয়ে এসেছে, তাই গাছ কাটার বিষয়ে এখানকার কারও কাছে যাওয়ার প্রয়োজন বোধ করেন না তাঁরা।

আজ সকালে বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা যায়, রুয়েটের প্রশাসনিক ভবনের পেছনে একটি খোলা জায়গায় বড় বড় কাটা গাছ পড়ে আছে। একটি কৃষ্ণচূড়াগাছে গুঁড়িসহ পড়ে আছে। সেটার ডালপালা এখনো কাটা হয়নি। আছে আম, মেহগনি, মিনজিরিগাছ।

গাছের ক্রেতা গোলাম মোস্তফা প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভাই, কী গাছ কিনলাম, বিক্রি করে টাকাই তোলা যাচ্ছে না। কার কী অনুমতি লাগে না লাগে, সে বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমি শুধু জানি, গাছগুলো কেনায় আমার অনেক লস হয়ে গেছে। কেউ কিনছে না।’

গাছ কাটার প্রতিবাদে সমাবেশ

গাছ কাটার প্রতিবাদে আজ দুপুরে রুয়েটের প্রধান ফটকের সামনে সমাবেশ হয়েছে। ‘পরিবেশ আন্দোলন’ ব্যানারে এতে অংশ নেন রাজশাহীর সচেতন নাগরিকেরা। সমাবেশে রাজশাহী পরিবেশ আন্দোলন ঐক্য পরিষদের সদস্যসচিব মো. নাজমুল হোসেনের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন ওয়ার্ল্ড ট্রাভেলার তানভীর অপু, পরিবেশ আন্দোলন ঐক্য পরিষদের সদস্য মো. তাজমুল হোসেন, রেজাউল করিম, রাজশাহী নগরের সাবেক ছাত্রলীগ ফোরামের সদস্য মিজানুর রহমান প্রমুখ।

default-image

বক্তারা বলেন, রাজশাহীর মতো এত গরম অঞ্চল বাংলাদেশে আর কোথাও নেই। রাজশাহীকে বসবাসের জায়গা হিসেবে উপযোগী রাখতে যেখানে প্রচুর গাছ লাগাতে হবে, সেখানে উন্নয়নের নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিত ব্যক্তিরা গাছ কাটার উৎসব করছেন। রুয়েটে ইতিমধ্যে ১৫টি অর্ধশতবর্ষী গাছ কাটা হয়েছে। সব মিলিয়ে ৫০টি গাছ কাটার পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষের। রুয়েটের পেছন দিকে আরও অনেক খালি জায়গা আছে। সেই দিকে এই ১০ তলা ভবনগুলো করা যেত।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন