অভিযোগপত্রে ওই যাত্রী দাবি করেছেন, তিনি ৫ মে দিবাগত রাত ২টা ১৫ মিনিটে কাউন্টারে টিকিট না পেয়ে ট্রেনে ওঠেন। এরপর টিটিই এসে তাঁদের কাছে টিকিট চান। তিনি টিকিট পাননি বলে জানান। পরে টিকিট দিতে বললে টিটিই তিনজনের ভাড়া বাবদ ১ হাজার ৫০০ টাকা দাবি করেন। ৩০০ টাকার টিকিট ৫০০ কেন জানতে চাইলে তিনি ৩ হাজার ৬০০ টাকা দিয়ে টিকিট নিতে হবে বলে জানান। এত টাকা দেওয়া সম্ভব না বলাতে টিটিই খেপে যান। তিনি বকাবকি করেন। ওই যাত্রীর দাবি, টিটিই মাদকাসক্ত ছিলেন। তিনি তাঁর শাস্তি দাবি করেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের ডিসিও নাসির উদ্দিন বলেন, টিটিই শফিকুল ইসলাম হীনম্মন্যতায় ভোগেন। তিনি এর আগেও যাত্রীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেছেন। ফলে, যাত্রীর লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

তবে টিটিই শফিকুল ইসলাম আজ দুপুরে দাবি করেন, ‘আমি কারও সঙ্গে অশোভন আচরণ করিনি। আমি শুধু আমার দায়িত্ব পালন করেছি। আমাকে ব্যাখ্যার জন্য ডাকা হয়েছে। আমি ব্যাখ্যা দিতে প্রস্তুত আছি। সেদিন যা যা ঘটেছে, আমি সেটাই বলব। স্যারেরা যা ব্যবস্থা নেওয়ার, নেবেন। আমার আর কিছু বলার নেই।’

৫ মে রাতে খুলনা থেকে ঢাকাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনে ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন স্টেশন থেকে বিনা টিকিটে তিন যাত্রী ঢাকায় যাচ্ছিলেন। তাঁরা ট্রেনের এসি কামরায় বসেছিলেন। তাঁদের কাছে ভাড়া চাইলে টিটির সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে ওই তিন যাত্রী নিজেদের রেলমন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয় দেন। টিটিই শফিকুল ইসলাম তাঁদের কাছ থেকে ১ হাজার ৫০ টাকা ভাড়া নিয়ে এসি কামরা থেকে শোভন কামরায় পাঠান। ওই তিন যাত্রী শোভন কামরাতেই ঢাকা পৌঁছান। এর কিছুক্ষণের মধ্যে মুঠোফোনে টিটিই শফিকুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্তর বিষয়টি জানানো হয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন