বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ ও রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, ভানুগাছ সড়কের পাশে রেলের জমিতে বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা করেছিলেন প্রভাবশালী দখলদারেরা। ২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর সেখানে রেলের শতকোটি টাকা মূল্যের ভূমি উদ্ধার করা হয়। সে সময় উচ্ছেদ করা শতাধিক অবৈধ পাকা স্থাপনার মধ্যে ছিল নার্সারি প্রকল্প, রেস্তোরাঁ, গ্যাস সিলিন্ডারের গুদাম, আসবাবের দোকান, সেলুন, চা–পাতার দোকান, বাসাবাড়ি, মুদিদোকান, ফার্মেসি, হার্ডওয়্যারের দোকান, ওয়ার্কশপ, পরিবহন অফিস। কিন্তু দিনে দিনে জায়গাটি আবার বেদখলে চলে যায়। বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নামে স্থাপনা তোলেন প্রভাবশালীরা।

বৃহস্পতিবার সকালে এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছিল রেল বিভাগ। এর অংশ হিসেবে সকালে ভানুগাছ সড়কে একটি এক্সকাভেটর এনে রাখা হয়। সেটি রেলগেট পয়েন্টের একটি স্থানে থেমে ছিল। এ সময় তাতে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন অজ্ঞাতনামা কয়েক ব্যক্তি। আগুনে এক্সকাভেটরের চালকের কেবিন ও নিচের অংশ সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।

শ্রীমঙ্গল ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ মিজানুর রহমান বলেন, ‘বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই আমরা ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিভিয়ে ফেলেছি। এক্সকাভেটরটির কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা নিরূপণ করার চেষ্টা চলছে।’

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, ভানুগাছ সড়ক এলাকায় মানুষের জটলা। সেখানে অবৈধ দখলদারদের পাশাপাশি উৎসুক লোকজনও ভিড় করেন। পুড়ে যাওয়া এক্সকাভেটরটিকে ঘিরে রেখেছিলেন তাঁরা। লোকজনকে সরিয়ে নিতে কাজ করছিলেন রেলওয়ে ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোকজন।

শ্রীমঙ্গল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) নয়ন কারকুন বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সোলেমান মিয়া (৩৫) নামের একজনকে আটক করেছে। অবৈধ স্থাপনাগুলোতে যাঁরা ব্যবসা চালাচ্ছেন, তিনি তাঁদের একজন। এক্সকাভেটরে আগুন দেওয়ার ঘটনায় সন্দেহভাজন তিনি। তাঁকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নজরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের বলেন, এই স্থানে রেলের মোট ২ দশমিক ৮৭ একর জায়গা আছে। এর মধ্যে ১ দশমিক ৪৭ একর জায়গা নিয়ে বিরোধ আছে। ব্যবসায়ীরা জমির ওপরে স্থিতাবস্থার বিষয়ে আদালতের কাগজপত্র দেখাচ্ছেন। তাঁদের মঙ্গলবার ওই কাগজপত্র নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের দপ্তরে আসতে বলা হয়েছে। কাগজপত্র দেখে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন