default-image

রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম বলেছেন, রোগীদের পরিবহনে সড়কপথে অ্যাম্বুলেন্স ও আকাশপথে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের মতোই রেলে অ্যাম্বুলেন্স সংযুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে। যাতে রোগীরা চিকিৎসার জন্য খুব সহজেই তাঁদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন।

আজ রোববার দুপুরে পঞ্চগড়ের বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম রেলওয়ে স্টেশনে রেলবহরে কৃষিজাত পণ্য পরিবহনের জন্য অত্যাধুনিক লাগেজ ভ্যান সংযোজন বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

রেলপথমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় রেলব্যবস্থাকে যুগোপযোগী, আধুনিক ও ভারসাম্যপূর্ণ একটি যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য কাজ করা হচ্ছে। সড়ক, নৌ, বিমান ও রেল পরিবহনকে সমানভাবে জনগণের ব্যবহার উপযোগী করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে সরকার।

পঞ্চগড়-২ আসনের সাংসদ নূরুল ইসলাম বলেন, রেলবহরে পণ্য পরিবহনের জন্য অত্যাধুনিক লাগেজ ভ্যান আমদানি করা হবে। যার মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা প্রান্তিক এলাকা থেকে খুব সহজেই তাঁদের কৃষিজাত পণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য রেলে পরিবহন করতে পারবেন। এ জন্য এজেন্ট নিয়োগের পরিকল্পনা আছে। তাদের মাধ্যমে পণ্যগুলো সঠিকভাবে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাবে। এতে এজেন্ট, রেল কর্তৃপক্ষ, চাষি ও ব্যবসায়ী—সবাই লাভবান হবেন।

বিজ্ঞাপন

মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে কক্সবাজার পর্যন্ত রেলযোগাযোগ চালুর কাজ চলছে। ২০২২ সালের মধ্যেই এই কাজ শেষ হবে। এতে পঞ্চগড় থেকে রেলপথেই কক্সবাজার যাওয়া যাবে। এরই মধ্যে খুলনা থেকে মোংলা পর্যন্ত রেলযোগাযোগ সম্প্রসারণের কাজ চলমান রয়েছে। এতে মোংলা বন্দর নেপাল, ভুটান ও ভারতও ব্যবহার করতে পারবে, সেই সুযোগ তৈরি হচ্ছে। যমুনা নদীর ওপর ডাবল লাইনের ডুয়েল গেজ রেলসেতু তৈরি করা হচ্ছে। এটি হবে দেশের সবচেয়ে বড় রেলসেতু, যাতে সেতু পারাপারে রেলের গতি আরও বাড়বে।

রেলমন্ত্রী বলেন, রেলব্যবস্থায় শৃঙ্খলা নিয়ে আসা হয়েছে। রেল যোগাযোগ সবচেয়ে বেশি নিরাপদ জায়গা। এখানে কোনো চাঁদাবাজি নেই। মানুষ নিরাপদে ও সাশ্রয়ে রেলে যাতায়াত করতে পারে। রেলের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী রয়েছে। তাই মানুষ সড়কপথের চেয়ে এখন রেলে বেশি যাতায়াত করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। এ কারণে কৃষকেরা নিরাপদে তাঁদের কৃষিপণ্য পরিবহন করতে পারবেন। রেলের সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মিহির কান্তি গুহের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. শামছুজ্জামান, পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ার সাদাত, রোলিংস্টোক অপারেশন উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মিজানুর রহমান, পঞ্চগড় সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলামসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষক, দুগ্ধ খামারি ও ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন