default-image

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য সরিফা সালোয়া প্রায় সাত ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর মুক্ত হয়েছেন। উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর ক্যাম্পাসে অবস্থান নিশ্চিত করার দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে তাঁকে অবরুদ্ধ করেছিল ‘অধিকার সুরক্ষা পরিষদ’ নামের শিক্ষকদের একটি সংগঠন।

অধিকার সুরক্ষা পরিষদের দাবি, উপাচার্যের ক্যাম্পাসে উপস্থিত থাকা এবং সব অনিয়ম বন্ধের দাবিতে অধিকার সুরক্ষা পরিষদের শিক্ষকেরা দুপুর ১২টায় সহ-উপাচার্য সরিফা সালোয়ার সঙ্গে দেখা করতে যান। শিক্ষকদের সঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও ছিলেন। এ সময় সরিফা সালোয়া সিন্ডিকেটের সভাকক্ষে ছিলেন। শিক্ষকেরা সেখানে গিয়ে অধিকার সুরক্ষা পরিষদের পক্ষ থেকে সহ-উপাচার্যকে একটি স্মারকলিপি দেন।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি প্রদত্ত নিয়োগের শর্তে বলা হয়েছে, উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে সার্বক্ষণিক উপস্থিত থাকতে হবে। কিন্তু উপাচার্য মাসের পর মাস অনুপস্থিত থাকছেন। অধিকার সুরক্ষা পরিষদের পক্ষে দাবি করা হয়েছে, উপাচার্যকে আজই (বৃহস্পতিবার) ক্যাম্পাসে উপস্থিত হতে হবে। সব সভা ক্যাম্পাসেই করতে হবে। সব অপকর্ম বন্ধ করতে হবে।

এরপর আলোচনার একপর্যায়ে শিক্ষকেরা সহ-উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে ফেলেন। তাঁরা সিন্ডিকেট সভাকক্ষ থেকে সহ-উপাচার্যকে আর বের হতে দেননি।

অধিকার সুরক্ষা পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক মতিউর রহমান বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয়ের যাঁরা উপাচার্যের অবৈধ কাজের সহযোগী, তাঁরাও অপরাধের দায় এড়াতে পারেন না। তাই তাঁদেরও এসব কাজ থেকে সরে আসতে হবে।

কর্মসূচি চলাকালে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি গাজী মাজহারুল আনোয়ার বলেন, ঢাকায় লিয়াজোঁ অফিসে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ থেকে ছয়জন ব্যক্তির যাওয়া-আসা বন্ধ করলেই অনেক অপকর্ম বন্ধ হবে। তাই এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ সব সিন্ডিকেট সদস্যকে তিনি ঢাকার সভায় উপস্থিত না হওয়ার জন্য অনুরোধ করেন।

বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি তুহিন ওয়াদুদ সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, সহ-উপাচার্য আন্দোলনরত শিক্ষকদের আশ্বস্ত করেছেন তিনি উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসার জন্য চেষ্টা করবেন। এ ছাড়া শিক্ষকদের বিভিন্ন দাবি বাস্তবায়নেও তিনি চেষ্টা করবেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সন্ধ্যা সোয়া সাতটার দিকে সহ-উপাচার্য সরিফা সালোয়াকে মুক্ত করা হয়।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন