বরগুনা জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল আটটা থেকে গতকাল শনিবার সকাল আটটা পর্যন্ত বরগুনা জেলায় ৭৭ জন ডায়রিয়ার আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে বরগুনা সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন, আমতলীতে ১৩ জন, বেতাগীতে ৫ জন, বামনায় ৫ জন, পাথরঘাটায় ৪ জন এবং বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ৪৭ জন ভর্তি হয়েছেন।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ৭৭৯ রোগী ভর্তি হয়েছে। জানুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত জেলায় ১ হাজার ৫৬০ জন আক্রান্ত হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডের শয্যাসংকটের কারণে মেঝে ও বারান্দায় বিছানা পেতে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ সময় কথা হয় বরগুনা শহরের কলেজ রোডের সৈয়দ মোজ্জামেল হকের সঙ্গে। বলেন, তিনি বৃহস্পতিবার দুপুরে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। হাসপাতালে ডায়রিয়া ওয়ার্ডের শৌচাগারের যে অবস্থা, সেখানে কেউ গেলে আবারও ডায়রিয়া আক্রান্ত হবে।

ডায়রিয়ায় আক্রান্ত সন্তানকে গতকাল হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছেন বরগুনা সদর উপজেলার ঢলুয়া গ্রামের মুন্নি বেগম। তিনি বলেন, ‘শয্যা না থাকার কারণে হাসপাতালের মেঝেতে বিছানা করে বাচ্চার চিকিৎসা করাচ্ছি। হাসপাতালের পরিবেশ খুব নোংরা। তবে চিকিৎসাসেবা ভালো।’

বরগুনা সদর হাসপাতালের আরএমও তাসকিয়া সিদ্দিকা বলেন, ডায়রিয়ার আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা শয্যার চেয়ে চার গুণের বেশি। এ কারণে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে বেগ পেতে হচ্ছে। হঠাৎ ডায়রিয়ায় আক্রান্তর সংখ্যা বেড়ে চলছে। চিকিৎসক ও নার্সরা চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। পুকুর বা খালের পানি ব্যবহার করার কারণে মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে।

ডায়রিয়ার আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা শয্যার চেয়ে চার গুণের বেশি। এ কারণে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে বেগ পেতে হচ্ছে। হঠাৎ ডায়রিয়ায় আক্রান্তর সংখ্যা বেড়ে চলছে। চিকিৎসক ও নার্সরা চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। পুকুর বা খালের পানি ব্যবহার করার কারণে মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে।
তাসকিয়া সিদ্দিকা, বরগুনা সদর হাসপাতালের আরএমও

তাসকিয়া সিদ্দিকা আরও বলেন, ডায়রিয়া থেকে রক্ষা পেতে গৃহস্থালির কাজে খাল, বিল ও নদীর পানি ব্যবহার করা যাবে না। গৃহস্থালির কাজ যতটা সম্ভব পানি জীবাণুমুক্ত করে ব্যবহার করতে হবে। পচা ও বাসি খাবার খাওয়া যাবে না। এসব ব্যাপারে মানুষ সচেতন হলে ডায়রিয়ায় আক্রান্তের হার কমে আসবে।

সিভিল সার্জন ডা. ফজলুল বলেন, ‘বরগুনা সদর ও আমতলী উপজেলায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি। প্রতি উপজেলায় আমাদের পর্যাপ্ত ওষুধ মজুত আছে। ডায়রিয়া থেকে রক্ষা পেতে বিশুদ্ধ পানির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।’