default-image

ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ও কিছু কিছু এনজিওর চাপে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তর প্রক্রিয়া বিলম্ব হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তে প্রায় এক লাখ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁদের বেশির ভাগই সেখানে যেতে ইচ্ছুক। দিনক্ষণ এখনো ঠিক না হলেও কিছু এনজিও ও ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সির চাপে এই স্থানান্তর প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে।

আজ রোববার রাজশাহীর বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ মন্তব্য করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের পেছনে যুক্তি তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন বলেন, রোহিঙ্গারা বর্তমানে যে জায়গায় রয়েছে, সেই জায়গার পরিমাণ ৬ হাজার ৮০০ একর। পাহাড় ও টিলায় ঘর হলেও জায়াগাটি অনেক কনজাসটেড (ঘিঞ্জি)। কিন্তু সমস্যা হলো অতিবৃষ্টি হলে যেকোনো সময় পাহাড় ধসে রোহিঙ্গারা মারা যেতে পারে। তখন সবাই আমাদের দোষ দেবেন। আর ভাসানচর অনেক সুন্দর জায়গা। ভাসানচরে গেলে রোহিঙ্গারা কৃষিকাজ করতে পারবে, গরু-ছাগল পালন করতে পারবে। দিনক্ষণ ঠিক না হলেও আমরা রোহিঙ্গাদের সেখানে স্থানান্তর করার চেষ্টা করছি। মিয়ানমারের নতুন সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও উন্নত হবে বলেও মনে করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

বিজ্ঞাপন
পরে মন্ত্রী রাজশাহী কলেজ মিলনায়তনে মতবিনিময় সভায় যোগ দেন। এর আগে সকালে জাতীয় নেতা শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

আমেরিকার নতুন সরকারের বিষয়ে তিনি বলেন, আমেরিকার নতুন সরকার অত্যন্ত দৃঢ় ও পরিণত রাজনীতিবিদ। তাদের সঙ্গে আমরা আগেও কাজ করেছি। তারা মানবাধিকার ইস্যুতে খুব সোচ্চার। আর রোহিঙ্গা ইস্যুতে মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে। সে ক্ষেত্রে মনে করি, আমরা আমেরিকার কাছে শক্তিশালী সমর্থন পাব। তা ছাড়া আমাদের একটা বড় ইস্যু জলবায়ু পরিবর্তন। এ বিষয়েও বাইডেন সরকারের কাছে যথেষ্ট সহায়তা পাব।

পরে মন্ত্রী রাজশাহী কলেজ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি বলেন, বাংলাদেশের দুটি বিষয় উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে। একটি হলো মানবসম্পদ, অন্যটি নদী-নালা। বাংলাদেশের মানবসম্পদকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। বর্তমানে প্রবাসীরা বছরে ১৮ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠান। এটি আরও বৃদ্ধি করা সম্ভব। তা ছাড়া দেশে প্রায় ১ হাজার ৩০০ নদী-নালা রয়েছে। সেগুলোকে কাজে লাগাতে হবে।

মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ হবিবুর রহমান। সভায় কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সকালে মন্ত্রী রাজশাহী নগরের কাদিরগঞ্জে জাতীয় নেতা শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে তিনি রাজশাহী কলেজ চত্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

মন্তব্য পড়ুন 0