ধর্ষণ-নিপীড়ন ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে লংমার্চের সমাপনী সমাবেশের একাংশ। শনিবার বিকেলে নোয়াখালীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে
ধর্ষণ-নিপীড়ন ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে লংমার্চের সমাপনী সমাবেশের একাংশ। শনিবার বিকেলে নোয়াখালীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরেপ্রথম আলো

নোয়াখালীতে শেষ হয়েছে ‘ধর্ষণ-নিপীড়ন ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ’ শীর্ষক দুই দিনের লংমার্চ। শনিবার সন্ধ্যায় নোয়াখালীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে বামপন্থী বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের এ লংমার্চের সমাপনী সমাবেশ থেকে ২১ অক্টোবরের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের পদত্যাগের দাবি জানানো হয়। এ দাবি না মানলে বৃহত্তর কর্মসূচির হুমকি দেওয়া হয়।

সমাবেশে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতারা ঘোষণা দেন, সমাবেশের মধ্য দিয়ে লংমার্চ শেষ হলেও আন্দোলন শেষ হয়ে যায়নি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ১৯ অক্টোবর বিভাগীয় পর্যায়ে মহাসমাবেশ করা হবে। এরপর একই দাবিতে ২১ অক্টোবর রাজপথ অবরোধ করা হবে। তাতেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদত্যাগ না করলে হরতাল-অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচিও দেওয়া হতে পারে।

বিকেল সাড়ে চারটার দিকে নোয়াখালীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে লংমার্চ-সমাবেশ শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা সিপিবির সভাপতি ও সমাবেশের সমন্বয়ক মোল্লা হাবিবুর রাছুল। সমাবেশে বক্তাদের বক্তৃতায় ধর্ষণ-নিপীড়ন ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে ক্ষোভের পাশাপাশি লংমার্চ গাড়িবহরে হামলার ঘটনাতেও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, শনিবার বেলা ১১টার দিকে ফেনীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ শেষ করে নোয়াখালী জেলা শহরের মাইজদীতে আসার পথে ফেনী ও দাগনভূঁইয়া পরপর চার দফায় লংমার্চের গাড়ির বহরে পুলিশ ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহযোগী ছাত্রলীগ–যুবলীগের কর্মীরা হামলা করেন। ওই হামলায় লংমার্চের গাড়িবহরে থাকা কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। হামলায় আহত ব্যক্তিদের মধ্যে কমপক্ষে ১১ জনকে নোয়াখালীর ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
default-image

ফেনীর হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নোয়াখালীর সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যাক পুলিশ মোতায়েন রাখে জেলা পুলিশ প্রশাসন। সমাবেশ ঘিরে জেলা জজ আদালত সড়কের মুখে ও পাঁচ রাস্তার মুখে সাধারণ যানবাহন চলাচলও বন্ধ রাখে পুলিশ।

সমাবেশে ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মেহেদী হাসান, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি মাসুদ রানা, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা, বাংলাদেশ নারী মুক্তি কেন্দ্রের সভাপতি সীমা দত্ত, সিপিবির নারী সেলের সমন্বয়ক লক্ষ্মী রানী চক্রবর্তী, সদস্য লুনা নূর, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের মহিলা ফোরামের নেত্রী রোকসানা আফরোজ, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার তপন, যুব ইউনিয়নের সহসাধারণ সম্পাদক হাবীব ইমন প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

বক্তারা বলেন, ‘৯ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সামনে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। ধর্ষণের বিরুদ্ধে লড়াই এই নোয়াখালী থেকে শুরু হলো। বিচারহীনতার সংস্কৃতি বেশি দিন চলতে দেওয়া যায় না। আমরা মৃত্যুকে ভয় পাই না। আমরা চাই এই দেশ থেকে বিচারহীনতা চিরদিনের জন্য বিদায় হোক। আজকের এই লংমার্চ-সমাবেশ থেকে আন্দোলনের নতুন উদ্যম, নতুন যাত্রা শুরু হলো।’

সমাবেশে ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মেহেদী হাসান বলেন, ‘এই সরকার ধর্ষকের পৃষ্ঠপোষক। এই সরকারকে আমরা আর ক্ষমতায় দেখতে চাই না। সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে। ৯ দফা দাবিতে ১৯ অক্টোবর সারা দেশে বিভাগীয় পর্যায়ে মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ২১ অক্টোবর রাজপথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হবে। সেই দিন পর্যন্তও যদি স্বরাষ্টমন্ত্রী পদত্যাগ না করেন, তাহলে হরতাল, অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।’

মন্তব্য পড়ুন 0