default-image

সরকারঘোষিত সপ্তাহব্যাপী সর্বাত্মক লকডাউনের প্রথম দিন আজ বুধবার সকাল থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম প্রবেশদ্বার রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাসসহ ছোট গাড়ির চাপ রয়েছে। এসব গাড়ির চালকেরা ফেরি পারাপারের টিকিট সংগ্রহের জন্য নির্ধারিত কাউন্টারের সামনে ভিড় করছেন।

সকালে দেখা যায়, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থার (বিআইডব্লিউটিসি) কাউন্টারের সামনে ভিড়। তার সামনে প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাসসহ ছোট গাড়ির লাইন। এসব গাড়ির চালকেরা ফেরিতে ওঠার টিকিট সংগ্রহের জন্য ভিড় করে আছেন। এ সময় অধিকাংশ চালকের মুখে ছিল না মাস্ক। মানা হয়নি স্বাস্থ্যবিধি। অধিকাংশ চালকই মাস্ক ছাড়া কাউন্টারের সামনে ছড়িয়ে–ছিটিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। অনেকে টিকিট না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ঘাটে অধিকাংশ ফেরি র‌্যাম তুলে দিয়ে বসে আছে। নদী পাড়ি দিতে না পারায় অনেকে ফিরে যাচ্ছেন। টার্মিনালে কিছু পণ্যবাহী গাড়ি বসে আছে।

যশোরের বেনাপোল থেকে আসা প্রাইভেটকারের চালক মো. রানা বলেন, ‘সাহ্‌রি খেয়ে রোজা রাখা অবস্থায় জরুরি কাজের জন্য মানিকগঞ্জ যেতে হচ্ছে। ভোরে দৌলতদিয়া ঘাটে এসে দেখি ফেরির টিকিট কাউন্টার বন্ধ। কোনো লোকজন নেই। তাহলে আমরা কীভাবে নদী পাড়ি দেব?’

বিজ্ঞাপন

পিরোজপুরের কাউখালী থেকে মাইক্রোবাসে আসা যাত্রী বাবু শেখ বলেন, ‘ছোট বোন খুবই অসুস্থ। একটি মাইক্রোবাস ভাড়া করে রাত তিনটার দিকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা করেছি। দৌলতদিয়া এসে শুনি ফেরি বন্ধ রাখা হয়েছে। টিকিট দেওয়া বন্ধ রেখেছ। তাহলে রোগীবাহী গাড়ি নিয়ে কীভাবে নদী পাড়ি দেব?’

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক ফিরোজ শেখ বলেন, গতকাল রাতের মধ্যেই দৌলতদিয়া ঘাটে এবং গোয়ালন্দ মোড় আটকে থাকা সব পণ্যবাহী গাড়ি পারাপার করা হয়েছে। এখন ঘাটে কোনো ট্রাক বা পণ্যবাহী যানবাহন নেই। প্রশাসনের নির্দেশক্রমে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘সারা দেশে কঠোর লকডাউনের কথা শুনে মানুষ যদি ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে আসে, তাহলে আমাদের কী করার আছে? জরুরি রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যবহৃত গাড়ি, লাশ বা রোগীবাহী কোনো গাড়ি পার হতে হলে স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অনুমতি সাপেক্ষে পার হতে পারবে। এ ছাড়া আমাদের করার কিছু নেই। প্রতিটি ঘাটে ফেরি নোঙর করে রাখা হয়েছে। কিছু গাড়ি থাকলেও তাদের ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছি।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন