default-image

ঈদুল ফিতরের আগে ‘লকডাউনের’ বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে দোকানপাট খোলা রাখার দাবি জানিয়েছেন রাজশাহীর ব্যবসায়ীরা। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি জানিয়েছে রাজশাহী ব্যবসায়ী সমন্বয় পরিষদ। সংগঠনের নেতারা প্রয়োজনে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন বাজার প্রতিনিধির সমন্বয়ে কমিটি করে বাজারের স্বাস্থ্যবিধি তদারক করার প্রস্তাব করেছেন।

নগরের আরডিএ মার্কেটে অবস্থিত সমন্বয় পরিষদের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. সেকেন্দার আলী। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সহসভাপতি মো. আলী আশরাফ।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, তাঁরা সরকারঘোষিত সব স্বাস্থ্যবিধি, নিয়মনীতি ও বিধিনিষেধ মেনে চলছেন এবং ভবিষ্যতেও মেনে চলবেন। কিন্তু বাস্তব সত্য কথা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ভালো নেই। গত বছর মার্চ মাস থেকে এ পর্যন্তু তাঁরা প্রায় ১৩ মাস ধরে লোকসান গুনছেন। বর্তমানে প্রতিটি ব্যবসায়ী পুঁজি হারিয়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন। এ অবস্থা চলতে থাকলে দোকানমালিক ও কর্মচারীদের পথে বসা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।

বিজ্ঞাপন

ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা দেশি-বিদেশি সব ধরনের পণ্য ভোক্তাদের কাছে পৌঁছানোর শক্তিশালী মাধ্যম ও কর্মসংস্থানের বড় একটি খাত। এই ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হবে। ফলে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাবে। বাজারে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে।

দেশের করোনা সংক্রমণে ঊর্ধ্বগতির পরিস্থিতি বিবেচনায় জীবন ও জীবিকাকে পাশাপাশি রেখে তাঁরা সংবাদ সম্মেলনে পাঁচ দাফা দাবি রাখেন। প্রথম দফায় ঈদের আগে লকডাউনের বিকল্প ব্যবস্থার প্রস্তাব করা হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মাঝে স্বল্প সুদে ৫ লাখ থেকে ২০ লাখ পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি ঋণ বিতরণ, তৃতীয় দফায় সব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও কর্মচারীকে অবিলম্বে টিকার আওতায় আনা, চতুর্থ দফায় বিগত এক বছরের ব্যাংকঋণ মওকুফ ও পঞ্চম দফায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের চলতি অর্থবছরে ভ্যাট ও আয়কর মওকুফ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী ব্যবসায়ী সমন্বয় পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক মো. শামসুজ্জামান, সমাজকল্যাণ সম্পাদক মো. আজম আলী, বেকারি সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু বাক্কার আলী, বেনেতী ব্যবসায়ী সমিতির সহসভাপতি মজিবর রহমান প্রমুখ।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন