বিজ্ঞাপন

সাতক্ষীরা শহর ঘুরে দেখা গেছে, শহরের পোস্ট অফিস, পাকপোল, মুক্তিযোদ্ধা মোড়, নিউমার্কেট মোড়, তুফান মোড়, কেস্টময়রার মোড়, পুরতান সাতক্ষীরা, পিএন স্কুল মোড়, আমতলা, নারকেলতলা, চৌরঙ্গী, এসপি বাংলো, খুলনা রোড়ের মোড়, সার্কিট হাউস মোড়, কদমতলা মোড়, মেডিকেল কলেজ মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে বাঁশের ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে। লোকডাউন সফল করতে পুলিশের পক্ষ থেকে সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ব্যারিকেডের পাশে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

খুলনা থেকে সাতক্ষীরায় ঢোকার মুখে পাটকেলঘাটায় ও যশোর থেকে সাতক্ষীরা ঢোকার মুখে কাজীরহাটে চৌকি বসিয়েছে পুলিশ। অন্য জেলা থেকে যাতে সাতক্ষীরায় মানুষ আসতে না পারেন, সে জন্য এই চৌকি বসিয়েছে পুলিশ। এসবের পরও সাতক্ষীরায় ইজিবাইক, ভ্যান ও মোটরসাইকেল ছাড়াও পণ্যবাহী মিনি ট্রাক চলতে দেখা যাচ্ছে। সাতক্ষীরা শহর ও উপজেলা শহর ছাড়া অধিকাংশ এলাকায় লকডাউন মানছে না কেউ। বাজারে মানছে না সামাজিক দূরত্ব ও ব্যবহার করছে না মাস্ক।

সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে আজ শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২১১ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১১১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। সংক্রমণের হার ৫২ দশমিক ৬০ শতাংশ। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় ৯৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৪৮ জন শনাক্ত হন।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে আরও জানা গেছে, সাতক্ষীরা জেলায় এ পর্যন্ত ১০ হাজার ২৮৫টি নমুনা পরীক্ষা করে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ২৫৬ জনের। আজ সাতক্ষীরা জেলায় করোনা রোগীর সংখ্য ৬৪৭। এর মধ্যে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩৭ জন ও সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ২২ জন ভর্তি রয়েছেন। অন্যরা চিকিৎসা নিচ্ছেন বাড়িতে। গতকাল জেলায় করোনা সংক্রমণের রোগী ছিলেন ৫৭৪ জন।

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. কুদরত-ই-খোদা জানান, করোনা রোগী বেড়ে চলছে। আজ হাসাপাতালের ১৩৫ শয্যার করোনা ইউনিটে রোগীর সংখ্যা ১৩৬। এর মধ্যে করোনা রোগী ৩০ জন। চিকিৎসক ও নার্স–সংকটে তাঁরা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন।

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ফায়সাল আহমেদ জানান, ৪০ শয্যার হাসপাতালে রোগী রয়েছেন ২৮ জন। এর মধ্যে ২২ জন করোনা রোগী।
সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল সন্ধ্যায় করোনায় মারা গেছেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার গোবরদাড়ি গ্রামের মাসুদা খাতুন (৫০)। এ ছাড়া করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আনারুল ইসলাম (৬৫), মাগুরা গ্রামের হালিমা খাতুন (৬৪) ও শ্যামনগর উপজেলার গৌরিপুর গ্রামের বিধান চন্দ্র মণ্ডল (৩৭)। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন কালীগঞ্জ উপজেলার চাচড়া গ্রামের ময়না মণ্ডল (৬৫)।

সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন হুসাইন সাফায়াত বলেন, জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটি জেলায় করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ৫-১১ জুন লকডাউন দেয়। কিন্তু করোনার সংক্রমণ না কমায় লকডাউন বাড়িয়ে ১৭ জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। লকডাউন সফল করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও স্বাস্থ্য প্রশাসন সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে।

লকডাউনে নিম্ন আয়ের মানুষ বিপাকে
এদিকে লকডাউন বাড়ায় দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষ বিপাকে পড়েছে। রিকশাচালকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের আয়–রোজগার কমে যাওয়ায় তাঁরা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কখনো খেয়ে, আবার কখনো না খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন।

শ্যামনগর উপজেলা থেকে সাতক্ষীরায় কাজ করতে এসেছিলেন রেজাউল করিম। এখন তাঁর হাতে কোনো কাজ নেই। তাই পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাঠছে তাঁর। তিনি জানালেন, ‘২০২০ সালে মে মাসে ঘূর্ণিঝড় আম্পানে সব শেষ হয়ে গেছে। ঘরবাড়ি সব পানির তোড়ে ভেসে গেছে। জমি চলে গেছে নদীতে। এলাকায় কাজ নেই।Ñউপয়ান্তর না পেয়ে চলে এসেছিলাম সাতক্ষীরা শহরে। তারপর থেকে সাতক্ষীরা শহরে ভ্যান চালিয়ে মা–বাবাসহ ছয় সদস্যদের সংসার চলছিল। কিন্তু করোনায় লকডাউনের কারণে সাত দিন ধরে ভ্যান চালানো যাচ্ছে না শহরে। সংসার যে আর চলে না। আবার সাত দিন লকডাউন বাড়ানো হয়েছে। আমাদের মতো মানুষে চলবে কী করে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন