বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

তাঁরা আজ তিনজন মিলে তিন মণ আম এনেছিলেন। যে আম অন্য সময় বিক্রি করেন দেড় হাজার টাকা মণদরে, সেই আম আজ বিক্রি করলেন ৮০০ টাকা মণ। ইয়াসিন আলী বলেন, ‘তিন মণ আম বিক্রি কইর‌্যা তিনজনে ২ হাজার ৪০০ টাকা পাইনু। এতে ভ্যান খরচই জুটবে না। যে তিনজন আইসাছিনু, তার ভাত খরচই জুটবে না। হামরা কী কইর‌্যা খাব?’

আম ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগামী ১ জুন থেকে ক্ষীরসাপাতি আম বাজারজাত শুরু হবে। এখন গুটি জাতের আম বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য বছরে এ বাজার থেকে প্রতিদিন কমপক্ষে ৫০ থেকে ৮০ ট্রাক আম যায় দেশের বিভিন্ন এলাকায়। কিন্তু এখন ১০ থেকে ১৫ ট্রাক যাচ্ছে। এসব আমও বেশির ভাগই সংগ্রহ করা হচ্ছে বাগান থেকে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে যেসব বড় বড় ব্যাপারী আম কিনতে কানসাট বাজারে আসেন, তাঁরা লকডাউনের জন্য আসতে পারছেন না। এ জন্য বিক্রি না হওয়ার আশঙ্কায় আমচাষি ও ব্যবসায়ীরাও বাজারে আম নিয়ে আসছেন না।

default-image

কানসাট আম আড়তদার সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, প্রশাসন থেকে অনলাইনে আম বিক্রির কথা বললেও তা সম্ভব নয়। কেননা, অনলাইনে মাত্র পাঁচ ভাগ আম বিক্রি হয়ে থাকে। বাকি ৯৫ ভাগ আম এ বাজার থেকেই বিক্রি হয়। বাইরের ব্যাপারীরা না এলে এ বাজার জমবে না। এ এলাকার আমচাষি ও ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগের শেষ থাকবে না। তাই প্রশাসন ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা আমের ব্যাপারীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে থাকার জন্য হোটেলগুলোতে ব্যবস্থা ও অনুমতি দেওয়া হয়।

শিবগঞ্জ-সোনামসজিদ সড়কের কানসাটে রাস্তার দুই ধারে দেখা যায়, প্রায় ৩০০ আমের আড়ত। এর মধ্যে খুলেছে মাত্র ছয়-সাতটা। এগুলোর মধ্যে স্বর্ণা এন্টারপ্রাইজের সামনে মাত্র দুই ভ্যান আম দেখা গেছে। প্রতিষ্ঠানের মালিক হাসান আলী জানান, এ সময়ে তিনি কমপক্ষে ২০ ভ্যান আম কিনে থাকেন। কিন্তু এখন (বেলা আড়াইটা) পর্যন্ত কিনেছেন মাত্র দুই ভ্যান। এ সময় রাস্তার ধারে আম বিক্রির জন্য বহু ভ্যান দাঁড়িয়ে থাকে। কিন্তু এখন রাস্তা একদম ফাঁকা ও সুনসান অবস্থায় রয়েছে। ওই প্রতিষ্ঠানের আমের শ্রমিক মো. আশরাফুল বলেন, মৌসুমের এ সময়ে তাঁরা প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৬০০ টাকার বেশি আয় করে থাকে। কিন্তু এখন দিনে ২০০ টাকাও হচ্ছে না।

ববি ট্রেডার্স নামের এক আম আড়তের মালিক মিজানুর রহমান জানান, এখন পর্যন্ত তিনি কোনো আম কিনতে পারেননি। বাগানগুলো থেকে আম আসছে না। বাজারে বাইরের কোনো ব্যাপারী নেই। আম ব্যবসার অবস্থা খুবই শোচনীয়। আমের এ সময়ে বাগানগুলোতে বিশেষ কায়দায় সাইকেলে দুদিকে দুটি বড় ঝুড়িতে করে প্রায় পাঁচ মণ আম নিয়ে আসেন অসংখ্য শ্রমিক। এখানে বেলা দেড়টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত আমভর্তি এ রকম সাইকেল মাত্র একটি দেখা গেছে।

default-image

লকডাউনে আমের ব্যাপারে দুদিন আগে জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, আমের বাজার বসবে, তবে সেটা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বিভিন্ন ইউনিয়নে। আম পরিবহনের ক্ষেত্রে বাগান থেকে আম ট্রাকে করে পরিবহন করা যাবে, সেই সঙ্গে কুরিয়ারের মাধ্যমে আম পরিবহন করা যাবে।

তবে জেলার প্রসিদ্ধ আমচাষিদের একজন সৃজন ম্যাংগো প্রডিউসার কো–অপরারেটিভ লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক শামীম খান বলছেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম বেচাকেনা কানসাট বাজারকেন্দ্রিক। বাজার বসতে না পারার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন চাষিরা। জেলা প্রশাসন ইউনিয়ন পর্যায়ে ছড়িয়ে–ছিটিয়ে যে বাজার বসার কথা বলছে, তাতে আড়তদারদের সিন্ডিকেটের কবলে পড়বেন আমচাষিরা। ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হবেন। আমচাষিরা ভয়ে আম ভাঙছেন না, গাছেই আম পেকে যাচ্ছে। গাছপাকা আম তাঁরা বিক্রি করতে পারছেন না।

default-image

এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে লকডাউনের চতুর্থ দিন শুক্রবারেও শহরের রাস্তাঘাটে যানবাহন চলাচল দেখা যায়নি। শহরের প্রবেশপথগুলোতে পুলিশের কড়া তৎপরতা দেখা গেছে। শহরের দিকে আসা মোটরসাইকেলচালকদেরও পড়তে হয়েছে পুলিশি জেরার মুখে। জরুরি কাজের জন্য হেঁটেই চলাচল করতে দেখা যায় মানুষকে। খাদ্যদ্রব্যের দোকান ছাড়া প্রায় সব দোকান ছিল বন্ধ।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) লিয়াকত আলী শেখ প্রথম আলোকে বলেন, লকডাউন সফল করতে প্রশাসনের ১০টি ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করছেন। প্রশাসন আগের মতোই কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে পাওয়া ফলাফলে ১০৮ র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টে ৩৬ জনের পজিটিভ পাওয়া গেছে। তাঁদেরও করোনা রোগী হিসেবে ধরা হচ্ছে। তাঁদের কোয়ারেন্টিনে রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন