আজ সকালে সরেজমিনে বাংলাবাজার ফেরিঘাটে দেখা যায়, ঘাটের টার্মিনাল ও পন্টুনগুলোর আশপাশে নেই কোনো যাত্রী। তবুও যাত্রী পরিবহনের অপেক্ষায় সকাল থেকে দাঁড়িয়ে আছে ভাড়ায় চালিত কয়েকটি মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত ভ্যান। ঘাটের সংযোগ সড়কের দোকানপাট, খাবার হোটেল—সবই বন্ধ। পণ্যবাহী কয়েকটি ট্রাক ছাড়া ঘাটে কোনো যানবাহন নেই। অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি প্রয়োজনে আসা ছোট গাড়ি ঘাটে আসামাত্রই ফেরিতে উঠতে পারছে। তবে তা খুবই সীমিত। এই নৌপথে বাংলাবাজার ঘাট থেকে কোনো যাত্রী শিমুলিয়া হয়ে রাজধানী ঢাকায় যাচ্ছে না। তবে ঢাকা থেকে অল্পসংখ্যক মানুষকে আসতে দেখা যায়। আর শিমুলিয়া থেকে আসা ফেরিগুলোয় ১৫ থেকে ২০ জন যাত্রীর দেখা মিলছে।

ঢাকা থেকে আসা ফরিদপুরের ভাঙ্গাগামী যাত্রী মো. নেয়ামূল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঢাকার বাড্ডায় থাকি আমি। খুবই জরুরি প্রয়োজনে ভাঙ্গা যাচ্ছি।

মোটরসাইকেলে করে শিমুলিয়া ঘাট পর্যন্ত আসতে আমার ১ হাজার ৬০০ টাকা ভাড়া লাগছে। যেখানে ভাড়া মাত্র ১০০ টাকা।’

মাদারীপুরগামী সাব্বির হোসেন নামের আরেক যাত্রী বলেন, যে শো রুমে তিনি কাজ করেন, সেখানে আজ থেকে ছুটি। তাই ভোরে ঢাকা থেকে রওনা হয়েছেন।সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মাহিন্দ্র, রিকশা ও ভ্যানে করে তাঁকে আসতে হয়েছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) ঘাটসূত্রে জানা যায়, আজ ভোর থেকে যাত্রীর চাপ নেই। কঠোর লকডাউন চলায় কেউ প্রয়োজন ছাড়া বের হতে পারছে না। এরপরও নৌপথে যেকোনো দুর্ভোগ এড়াতে চারটি রো রো ফেরি, পাঁচটি ডাম্পসহ ১৪টি ফেরি চালু রাখা হয়েছে।

default-image

আজ সকাল ১০টায় বাংলাবাজার ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (টিআই) জামালউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, কঠোর লকডাউন চলার কারণে তাঁরা কঠোর অবস্থানে আছেন। ঘাটে পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া কোনো যানবাহন ঢুকতে দিচ্ছেন না। খুব কঠোর অবস্থানে থাকায় ঘাটেও যাত্রীদের আনাগোনা নেই। একদম ফাঁকা ঘাট।

বিআইডব্লিউটিসি বাংলাবাজার ফেরিঘাটে সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) জামিল আহমেদ বলেন, ঘাটে যাত্রী নেই। যাত্রীশূন্য ঘাটে শুধু অ্যাম্বুলেন্স ও পণ্যবাহী ট্রাক পারাপার করা হচ্ছে। উভয় ঘাট থেকে ১৪টি ফেরি চলাচল করছে। শিমুলিয়া থেকে আসা ফেরিগুলোয় ১০ থেকে ১২ জন যাত্রী দেখা গেলেও তাঁরা জরুরি প্রয়োজনে আসছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন