বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের একটি ওয়ার্ডে সম্মেলন ও দুটি ওয়ার্ডে সভা করে শুধু সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়। ইউনিয়নের অন্য ছয় ওয়ার্ডে কোনো কমিটি করা হয়নি কিন্তু ওই ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মনগড়া ৯টি ওয়ার্ডের কমিটি করে উপজেলায় জমা দিয়েছেন।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের একটি ওয়ার্ডে সম্মেলন ও দুটি ওয়ার্ডে সভা করে শুধু সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়। ইউনিয়নের অন্য ছয় ওয়ার্ডে কোনো কমিটি করা হয়নি কিন্তু ওই ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মনগড়া ৯টি ওয়ার্ডের কমিটি করে উপজেলায় জমা দিয়েছেন।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওই ইউনিয়নে সম্মেলনের জন্য ২৫১ জনকে কাউন্সিলর করা হয়। এর মধ্যে ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতি মজিবুর রহমানকে একই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি দেখিয়ে কাউন্সিলর করা হয়। ১ নম্বর ওয়ার্ডে আনোয়ার হোসেন, আবদুল কুদ্দুস, আবদুল হাসিমকে কাউন্সিলর করা হয়েছে। তাঁরা সবাই ওই ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য। ২ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপির সহসভাপতি জয়নাল আবেদিন ও আবুল কাশেমকে কাউন্সিলর করা হয়। ৩ নম্বর ওয়ার্ডে মো. সেলিমকে কাউন্সিলর করা হয়েছে। তিনি ওই ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য। ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজকেও কাউন্সিলর করা হয়।

যাঁরা গত কয়েকটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভোট করেছেন, তাঁদের বিভিন্ন ওয়ার্ড কমিটিতে রাখা হয়েছে। সেখান থেকেই কাউন্সিলর তালিকায় তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তালিকায় বিএনপির কোনো নেতা নেই।
ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাহেদ আলী

এ ছাড়া ৪ নম্বর ওয়ার্ডে আবদুর রব, আবুল কাশেম, মো. দিদার, বেলাল উদ্দিন; ৫ নম্বর ওয়ার্ডে মো. জামাল, আবদুজ জাহের, মো. মোস্তফা; ৬ নম্বর ওয়ার্ডে মো. কামাল, মো. সিরাজ; ৭ নম্বর ওয়ার্ডে মহিউদ্দিন হেজু, জাহের উদ্দিন, মো. নিজাম (আবদুল মুন্সি), সাইফ উদ্দিন; ৯ নম্বর ওয়ার্ডে শেখ ফরিদ ও মো. লিটনকে কাউন্সিলর করা হয়। তাঁরা প্রত্যেকেই ওয়ার্ড বিএনপির দায়িত্বশীল নেতা।

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নতুন কাউন্সিলর হওয়া আট নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তাঁদের মধ্যে তিন নেতা প্রথম আলোকে বলেন, আগে বিএনপি করলেও এখন তাঁরা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। বাকি পাঁচজন জানান, তাঁদের নাম কে রেখেছেন বা কেন রাখা হয়েছে, তা তাঁরা জানেন না।

আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর তালিকায় বিএনপির নেতাদের নাম থাকায় দলের নেতা-কর্মীরা প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ। আওয়ামী লীগের মতো একটি রাজনৈতিক দলের কাছে নেতা-কর্মীরা এটি আশা করেনি। দলের জন্য এটি লজ্জাজনক।
ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী আবদুর রব

আওয়ামী লীগের দুর্দিনের নেতা-কর্মীদের কাউন্সিলর না করে পদধারী বিএনপির নেতা-কর্মীদের কাউন্সিলর করায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ওই ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মো. আবদুর রব। তিনি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা আবু সাঈদ আল মাহমুদসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে তথ্য-প্রমাণসহ অভিযোগ তুলে ধরেছেন।

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী আবদুর রব বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর তালিকায় বিএনপির নেতাদের নাম থাকায় দলের নেতা-কর্মীরা প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ। বিতর্কিত তালিকা বাতিল করে এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছি। আওয়ামী লীগের মতো একটি রাজনৈতিক দলের কাছে নেতা-কর্মীরা এটি আশা করেনি। দলের জন্য এটি লজ্জাজনক।’

অভিযুক্ত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাহেদ আলী বলেন, তিন মাস আগে তাঁরা কাউন্সিলর তালিকা উপজেলার নেতাদের কাছে জমা দিয়েছেন। যাঁরা গত কয়েকটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভোট করেছেন, তাঁদের বিভিন্ন ওয়ার্ড কমিটিতে রাখা হয়েছে। সেখান থেকেই কাউন্সিলর তালিকায় তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তালিকায় বিএনপির কোনো নেতা নেই বলেও দাবি তাঁর।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওয়াহেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘কাউন্সিলর তালিকায় অনিয়মের অভিযোগটি পেয়েছি। ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পেয়েছি। দলের পরবর্তী সভায় এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক বলেন, বিষয়টি তাঁরাও জেনেছেন। ওই ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মো. আবদুর রব কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন