নিহত আমির হোসেন ভোলা সদর উপজেলার কুতুবপুরার মতলব মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় আহত ব্যক্তিরা হলেন পুলিশ সদস্য জহিরুল ইসলাম, মো. মহসীন, আনোয়ার হোসেন ও মোবারক হোসেন। আটক জেলেদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

জাটকা রক্ষায় মার্চ ও এপ্রিলে দেশের ইলিশের অভয়াশ্রমগুলোতে মাছ ধরা নিষিদ্ধ। এ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মেঘনা নদীতে মাছ শিকারের সময় নৌ পুলিশের সঙ্গে জেলেদের এ সংঘর্ষ হয়।

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, আহত মোট ১০ জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। নিহত আমির হোসেনকে আহত অবস্থায় প্রথমে সদর হাসপাতালে আনা হয়। তাঁর মাথায় মারাত্মক জখম ছিল। মাথা ও কান দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক থাকায় ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়।

নৌ পুলিশ জানায়, জাটকা সংরক্ষণে মেঘনায় দুই মাস মাছ ধরা বন্ধের সরকারি নিষেধাজ্ঞা চলছে। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে শনিবার দিবাগত রাতে নৌ পুলিশ নদীতে অভিযানে নামে। টহল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে মাছ ধরার সাতটি নৌকা নিয়ে তাদের ঘেরাও করা হয়।

এ সময় জেলেরা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে লাঠি ও জালের কাঠি নিক্ষেপ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ তিনটি রাবার বুলেট ছোড়ে। এ সময় পুলিশ সদস্য জহিরুল ইসলাম, মো. মহসীন, আনোয়ার, মোবারক ও পুলিশের স্পিডবোটের চালক আহত হন। আহত ব্যক্তিদের লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গুলিবিদ্ধ জেলে আমিরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নৌ পুলিশের চাঁদপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ কামরুজ্জামান মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘৭টি নৌকা নিয়ে ৩০ থেকে ৪০ জেলে পুলিশকে ঘিরে ফেলেন। পরে পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা করেন তাঁরা। এতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তিনটি গুলি ছোড়া হয়। জেলেদের ছোড়া ইটপাটকেলে আমাদের পাঁচজন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে দুজন মারাত্মক আহত হন। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’

বিষয়টি আরও খতিয়ে দেখতে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে রয়েছে বলে জানায় পুলিশ সূত্র।