বিজ্ঞাপন

সদরঘাট টার্মিনাল সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকাল ছয়টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত ৪৭টি লঞ্চ ঢাকা নদীবন্দর ছেড়ে যায়। এ ছাড়া দক্ষিণাঞ্চল থেকে সদরঘাট টার্মিনালে লঞ্চ এসেছে ৭৬টি।

হাতিয়াগামী তাসরীফ-২ লঞ্চের যাত্রী আসলাম হক বলেন, ‘ডেকের ভাড়া ৫৭০ টাকা’ লেখাসংবলিত ব্যানার লঞ্চের প্রবেশমুখে টাঙানো ছিল। তবে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ ডেকের ভাড়া ৬৫০ টাকা দাবি করছে। আগে লঞ্চের ডেকের ভাড়া ছিল ৩৫০ টাকা। অথচ সরকার নির্ধারিত ৬০ শতাংশ বর্ধিত ভাড়া ৫৭০ টাকা হলেও ঈদে লঞ্চের মালিকেরা যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন। সরকারের এসব বিষয় দেখা উচিত।

তাসরীফ–২ লঞ্চের কর্মচারী মিজানুর রহমান বলেন, যাত্রীদের অভিযোগ সঠিক নয়। লঞ্চে টাঙানো ব্যানারে উল্লেখ করা জনপ্রতি ৫৭০ টাকা ভাড়াই আদায় করা হচ্ছে।
পটুয়াখালী এমভি জামাল লঞ্চের যাত্রী সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘সকাল ১০টার দিকে পরিবার–পরিজন নিয়ে সদরঘাট টার্মিনালে এসেছি। লঞ্চের কর্মচারীরা ডাবল কেবিনের ভাড়া ৩ হাজার ২০০ টাকা দাবি করছেন। অনেক অনুরোধ করে ২ হাজার ৬০০ টাকা ভাড়ায় রাজি করেছি। সরকার ৬০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধি করলেও লঞ্চের লোকজন এর চেয়ে বেশি ভাড়া আদায় করছেন।’

সিরাজুল ইসলাম বলেন, সরকারি লোকজন বলছেন ৬০ শতাংশ বেশি ভাড়া দিতে হবে। কিন্তু লঞ্চমালিকেরা সেটি না মেনে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি ভাড়া আদায় করছেন। কর্তৃপক্ষের এসব বিষয় দেখা উচিত।

default-image

নাজিরপুরগামী মানিক-৯ লঞ্চের যাত্রী আফসানা বেগম বলেন, ‘শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে যাত্রী বহনের নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। অথচ লঞ্চে এসে দেখি, ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী নেওয়া হয়েছে। যাত্রী বেশি হওয়ায় কারও মধ্যে সামাজিক দূরত্ব ছিল না।’ তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়ায় নিরাপদ দূরত্ব বজায় থাকছে না। এতে নদীপথের যাত্রীদের করোনার সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে।

সুন্দরবন লঞ্চের পরিচালক মো. ঝন্টু বলেন, লঞ্চে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে না। ভাড়ার বিষয়ে যাত্রীদের অভিযোগ সঠিক নয়। তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষায় লঞ্চে প্রবেশকালে জীবাণুনাশক টানেলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া যাত্রীদের মাস্ক পরিধানে সচেতনতামূলক মাইকিং করা হচ্ছে।

অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল (যাপ) সংস্থার ঢাকা নদীবন্দরের আহ্বায়ক মামুন আল রশীদ বলেন, ‘আমার লঞ্চের পাতাবুনিয়া ও পাতারহাট রুটে দুটি ট্রিপ আছে। তবে যাত্রী কম। সোমবার গার্মেন্টস ছুটি হলে যাত্রীর সংখ্যা বাড়তে পারে।’ তিনি আরও বলেন, যাত্রীদের অভিযোগ সঠিক নয়। এ ছাড়া লঞ্চে যাত্রীদের মাস্ক পরিধানের বিষয়ে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিএর নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের ঢাকা নদীবন্দরের যুগ্ম পরিচালক জয়নাল আবেদীন বলেন, লঞ্চে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্ট লঞ্চ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া করোনাকালে সরকারি নির্দেশনা মেনে লঞ্চের ডেকে যাত্রী বহন করতে হবে। এ নির্দেশনা উপেক্ষা করলে সংশ্লিষ্ট লঞ্চের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, যাত্রীদের মাস্ক পরার বিষয়ে তাগিদ দিতে টার্মিনাল এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে। কিন্তু বেশির ভাগ যাত্রী স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন