বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রথম আলো: নৌযানগুলোতে যাত্রীদের নিরাপত্তা সরঞ্জাম বলতে এত দিন কেবল বয়া ও লাইফ জ্যাকেটের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হতো। অগ্নিদুর্ঘটনার বিষয়টি উপেক্ষিত ছিল। কেন?

সাইদুর রহমান: না, গুরুত্বহীন বা উপেক্ষিত ছিল, এটা নয়। লঞ্চগুলোতে প্রতিবছর এসব সরঞ্জাম না থাকলে সার্ভে সনদ দেওয়া হয় না। এটা সত্য, কারও কারও এ ক্ষেত্রে উদাসীনতা ছিল বা আছে। অভিযান-১০-এর দুর্ঘটনা আমাদের নৌপরিবহন খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য অ্যালার্মিং।

প্রথম আলো: এ ক্ষেত্রে তা প্রতিরোধে করণীয় কী?

সাইদুর রহমান: অবশ্যই অগ্নিনির্বাপণ বিধিমালার যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে উদ্যোগী হতে হবে। পাশাপাশি আরও আধুনিক ব্যবস্থা সংযোজন করার উদ্যোগ নিতে হবে। যেমন কোথাও আগুন লাগলে যাতে সঙ্গে সঙ্গে অ্যালার্ম বেজে ওঠে, সেই ব্যবস্থা সংযোজন করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে নৌপরিবহন অধিদপ্তর সুপারিশ দিলে আমরা তা বাস্তবায়ন করব।

প্রথম আলো: ঢাকা-বরিশাল পথে লঞ্চগুলো বিলাসবহুল হয়েছে, কিন্তু এখনো কিছু লঞ্চে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল। কেন?

সাইদুর রহমান: আমরা আসলে প্রতিবছরই নতুন নতুন যান্ত্রিক ব্যবস্থা লঞ্চগুলোতে সংযোজন করছি। বিশেষ করে যে লঞ্চগুলো এ প্রজন্মের। এসব লঞ্চে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি যেমন রাডার সিস্টেম, ইকোসাউন্ড, সিসি ক্যামেরা ও পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা কাঠামো আমরা রেখেছি। তবে আগের প্রজন্মের কিছু লঞ্চে এসব সমস্যা থাকলে সেগুলো দ্রুত ঠিক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রথম আলো: লঞ্চে অগ্নিনিরাপত্তার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা কী?

সাইদুর রহমান: আমাদের লঞ্চের মাস্টার, সুকানি, চালক ও অন্য কর্মীদের অগ্নিনিরাপত্তার ব্যাপারে তেমন কোনো প্রশিক্ষণ নেই। আমরা মনে করি, এ ক্ষেত্রে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। প্রয়োজনে ফায়ার সার্ভিসও মহড়া করে লঞ্চের স্টাফদের এ ব্যাপারে হাতে-কলমে প্রশিক্ষিত করতে পারে। তবে বড় কথা হলো, এখন মালিক, শ্রমিক, কর্মচারী—সব পক্ষকেই সতর্ক ও সচেতন হতে হবে। এসব ব্যাপারে আন্তরিক হতে হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন