বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

৭ নভেম্বর সরকারি প্রজ্ঞাপন সূত্রে জানা যায়, লঞ্চের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ৬০ পয়সা করে বেড়েছে। ১০০ কিলোমিটারের কম দূরত্বের ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধির হার ৩৫ শতাংশ এবং ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বের ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধির হার ৪৩ শতাংশ। ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত প্রতি কিলোমিটারে লঞ্চভাড়া ছিল ১ টাকা ৭০ পয়সা। এই ভাড়া বাড়িয়ে করা হয়েছে ২ টাকা ৩০ পয়সা। ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বের ক্ষেত্রে ভাড়া ছিল ১ টাকা ৪০ পয়সা; যা বাড়িয়ে করা হয়েছে ২ টাকা। এ ছাড়া সর্বনিম্ন ভাড়া ১৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ২৫ টাকা।

মেঘনা নদীর ইলিশা-মজুচৌধুরীরহাট নৌপথে বর্তমানে ১০টি লঞ্চ চলাচল করছে। এর মধ্যে রয়েছে রাকিন-২, আল মদিনা, জনতা, চন্দ্রদ্বীপ, উপকূল, উপবন, সঞ্চিতা, গ্রিন ওয়াটার, সোহেলী ও মিলন এক্সপ্রেস।

এ নৌপথের যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগে থেকেই এই নৌপথে লঞ্চে ভাড়া বেশি নেওয়া হয়। এখন জনপ্রতি ১৮০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। ফেরিতে যাত্রী পারাপারের জন্য নেওয়া হয় ৭০ টাকা। অবৈধ ট্রলার ও স্পিডবোটেও ভাড়া কয়েক গুণ বেশি।

এই নৌপথের নিয়মিত লঞ্চযাত্রী ভোলা শহরের শিক্ষক একরামুল আলম বলেন, লঞ্চে সিটে বসে, দাঁড়িয়ে, ওপরতলা, নিচতলা—সবখানে ১৮০ টাকা ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। প্রতিবাদ করেও কাজ হয় না।

জাভেদ ইকবাল নামের এক আইনজীবী অভিযোগ করেন ভাড়া তিন গুণ দিতে হচ্ছে। আবার ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ বেশি যাত্রী নেওয়া হচ্ছে। লঞ্চে হাঁটাচলার পথ থাকে না।

এ বিষয়ে ভোলা লঞ্চ মালিক সমিতির ভাইস চেয়ারম্যান বদিউজ্জমান বাদল মুঠোফোনে বলেন, ২৫ কিলোমিটার নৌপথের ভাড়া ৬০ টাকা। বেশি নেওয়ার সুযোগ নেই। ভাড়া বেশি নেওয়ার লিখিত অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্ট লঞ্চমালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে ইলিশা লঞ্চঘাটে এমভি রাকিন-২ লঞ্চের মাস্টার মো. হানিফ ও সুপারভাইজার মো. সুমনের সঙ্গে কথা হয়। বেশি ভাড়া নেওয়ার বিষয়ে দুজন বলেন, তাঁরা মালিকের নির্দেশনা পালন করছেন। মালিকের ফোন নম্বর চাইলে তাঁরা বলেন, মালিকের নম্বর তাঁদের কাছে নেই।

এ বিষয়ে গ্রিন ওয়াটার, সোহেলী ও মিলন এক্সপ্রেস লঞ্চের পরিচালক (মালিক) আফসার উদ্দিন বলেন, ‘ভাড়া কমবেশি নিয়ে আমি কথা বলতে পারব না। কথা বলতে হবে সব মালিক মিলে।’

নতুন করে হাইড্রোগ্রাফি সার্ভে প্রতিবেদন (এর মাধ্যমে নৌপথের দূরত্ব নির্ধারণ হয়) আসেনি বলে জানিয়েছেন ভোলা নদীবন্দরের উপপরিচালক শহিদুল ইসলাম। ওই প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত নতুন ভাড়া নির্ধারণের এখতিয়ার মালিকদের নেই।

লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরীরহাট লঞ্চঘাটটি চাঁদপুর নদীবন্দরের অধীন। এ বন্দরের যুগ্ম পরিচালক মাহমুদুল হাসান বলেন, সর্বশেষ হাইড্রোগ্রাফি সার্ভে মতে মেঘনা নদীর ইলিশা-মজুচৌধুরীরহাট নৌপথের দূরত্ব ২৫-২৬ কিলোমিটার। তবে এখনো লঞ্চমালিক, ফেরি ও লঞ্চঘাটের ব্যবস্থাপক ও বন্দর কর্মকর্তাদের হাতে লিখিত আকারে নৌপথের দূরত্ব ও ভাড়ার তালিকা দেওয়া হয়নি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন