কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া নৌপথ

লঞ্চ ও স্পিডবোট বন্ধ, ঘাটে আটকা ৬ শতাধিক যান

বিজ্ঞাপন
default-image

বৈরী আবহাওয়ার কারণে মাদারীপুর শিবচরের কাঁঠালবাড়ি ও মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়া নৌপথে লঞ্চ ও স্পিডবোটের চলাচল বন্ধ রয়েছে। আজ বুধবার বেলা ১১টা থেকে পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত এ দুটি নৌযান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। তবে এ পথে ফেরি চালু রয়েছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এদিকে নাব্যতা-সংকট ও তীব্র স্রোতের কারণে নদীতে ফেরি চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে। তার ওপর নানা সমস্যার কারণে এ পথের ১৫টি ফেরির মধ্যে এখন চলছে ছয়টি। ফলে ঘাটের উভয় পাড়ে যাত্রীসহ অনেক যানবাহন আটকা পড়েছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কাঁঠালবাড়ি ফেরিঘাটের ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক আশিকুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘ফেরি চলাচল সীমিত থাকায় গত ৬ দিন ধরে অন্তত ৬০০ ট্রাক ঘাটের টার্মিনালে আটকা পড়েছে। ঘাটের সংযোগ সড়কেও ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ রয়েছে।’

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কাঁঠালবাড়ি ঘাটের টার্মিনালে আটকে পড়া ট্রাকের চালক ইসরাফিল হোসেন বলেন, ‘খুলনা থেকে চট্টগ্রামে যাওয়ার জন্য এসেছি। কিন্তু ছয় দিন চলে গেল এখনো পদ্মাই পাড়ি দিতে পারলাম না। কবে চট্টগ্রাম যাব, তা কেউ জানে না। এভাবে দিনের পর দিন আটকা পড়ে থেকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।’

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীদের চাপ পড়েছে ফেরিতে। যাত্রীর চাপ বেশি থাকায় ফেরিতে কম যানবাহন পরিবহন করা হচ্ছে। এতে ছয় দিন ধরে টার্মিনালে কয়েক শ পণ্যবাহী ট্রাক আটকা পড়েছে।

কাঁঠালবাড়ি লঞ্চ ও ফেরিঘাট সূত্রে জানা যায়, আজ ভোর থেকে কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া পথে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়। সঙ্গে ঝোড়ো বাতাস। এ অবস্থায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে বেলা ১১টা থেকে লঞ্চ ও স্পিডবোট সাময়িক বন্ধ রাখা হয়। তবে সীমিত আকারে ফেরি চলাচল করছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) কাঁঠালবাড়ি লঞ্চঘাটের ট্রাফিক পরিদর্শক আক্তার হোসেন বলেন, উত্তর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে পদ্মায় বৈরী আবহাওয়া দেখা দিয়েছে। এ কারণে এখানে ২ নম্বর সতর্কসংকেত চলছে। এ কারণে লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে এসব নৌযান চলাচল আবার শুরু হবে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ঘাট সূত্রে জানা যায়, লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীদের চাপ পড়েছে ফেরিতে। প্রতিটি ফেরিতে দুই থেকে তিন শ যাত্রী পারাপার হচ্ছেন। যাত্রীর চাপ বেশি থাকায় ফেরিতে কম যানবাহন পরিবহন করা হচ্ছে। এতে ছয় দিন ধরে টার্মিনালে কয়েক শ পণ্যবাহী ট্রাক আটকা পড়েছে। এ পথে ডুবোচর সৃষ্টি হওয়ায় রো রো ও ডাম্ব ফেরি চলাচল করতে পারছে না। ছোট ও মাঝারি আকারের ছয়টি ফেরি সীমিত পরিসরে পদ্মা পাড়ি দিচ্ছে। কিন্তু নদীতে ঢেউ আর বাতাসের বেগ বেশি থাকায় ফেরি পারাপারে দ্বিগুণ সময় লাগছে। ফলে যাত্রী ও পরিবহনশ্রমিকেরা দুর্ভোগে পড়েছেন।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ঢাকাগামী যাত্রী তারিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকায় ফেরিতে পদ্মা পাড়ি দিতে হচ্ছে। মাঝনদীতে প্রচণ্ড ঢেউ আর বাতাস। দুর্ঘটনা এড়াতে ফেরিগুলো খুব আস্তে আস্তে চলে। তাই পদ্মা পারাপারে দুই ঘণ্টার বেশি সময় ব্যয় হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জানতে চাইলে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থার (বিআইডব্লিউটিসি) কাঁঠালবাড়ি ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক মো. আবদুল আলিম বলেন, ‘পদ্মার বিকল্প চ্যানেলে প্রচুর পলি জমা হচ্ছে। খনন করেও এসব পলি অপসারণ করা যাচ্ছে না। তাই বড় ফেরিগুলো ডুবোচরে আটকে যাচ্ছে। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। তাই আমরা ফেরি চলাচল সীমিত রেখেছি।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন