বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গতকাল সকালে এমভি কুয়াকাটা-২ নামের লঞ্চটি বরিশাল নৌবন্দরে পৌঁছালে নিচতলার কেবিন থেকে শারমিন আক্তারের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায় এবং লঞ্চের ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে।

পুলিশ জানায়, বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর দেখে গতকাল রাতে শারমিনের বাবা এনায়েত হোসেন বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় যোগাযোগ করেন। এরপর মর্গে গিয়ে শারমিনের লাশ শনাক্ত করেন তিনি। পরে এনায়েত হোসেনকে লঞ্চ থেকে জব্দ করা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখানো হয়। এতে বৃহস্পতিবার লঞ্চে ওঠার সময় শারমিনের সঙ্গে মাসুদকে চিহ্নিত করেন এনায়েত হোসেন। লঞ্চ থেকে নামার সময় মাসুদ একা নেমে যাওয়ার ঘটনাও তিনি চিহ্নিত করেছেন।

এনায়েত হোসেন জানান, বছর দুয়েক আগে মাসুদ হাওলাদারের সঙ্গে তাঁর মেয়ের বিয়ে হয়। এর আগে বিয়ের কথা বলে ধর্ষণের অভিযোগ এনে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের বিমানবন্দর থানায় মাসুদের বিরুদ্ধে শারমিন একটি মামলা করেছিলেন। এই মামলা নিষ্পত্তির জন্য উভয় পরিবারের সম্মতিতে ২০১৯ সালের ১৭ নভেম্বর তাঁদের বিয়ে হয়।

এনায়েত হোসেন বলেন, ‘বিয়ের পর শারমিনকে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। এরপর বিভিন্ন সময় তাকে শারীরিক নির্যাতন করা হতো বলে শুনতাম। শারমিন ১২ বছর ধরে ঢাকার তেজগাঁওয়ের কুনিপাড়ায় থেকে গার্মেন্টসে চাকরি করত। বিয়ের আগে আমাদের সহযোগিতা করলেও বিয়ের পর কোনো খোঁজখবর রাখত না। এমনকি তারা যে বরিশালে লঞ্চে করে আসত, সেটাও আমাদের জানা ছিল না।’ মাসুদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করার ক্ষোভ থেকেই শারমিনকে হত্যা করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

ওসি আজিমুল করিম বলেন, লাশ উদ্ধারের ঘটনায় শারমিনের বাবা বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। নিহত শারমিনের স্বজনেরা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে তাঁর স্বামী মাসুদকে হত্যাকারী হিসেবে দাবি করছেন। নৌ পুলিশ মামলার তদন্ত করবে। তবে পুলিশও ছায়া তদন্ত করবে।
বরিশাল নৌ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাসনাত জামান বলেন, আসামিকে গ্রেপ্তারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন