বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এদিকে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌপথের ফেরিগুলোতে রয়েছে অনেক যাত্রী ও যানবাহন। সকাল থেকেই এই নৌপথের ১০টি ফেরি ছোট যানবাহন ও মোটরসাইকেলে ঠাসা ছিল। ফেরি পারাপারের জন্য শিমুলিয়া ঘাটেই আটকা পড়েছে সহস্রাধিক যানবাহন। তীব্র গরমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফেরি পারাপারের অপেক্ষায় থেকে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকেরা।

বিআইডব্লিউটিএ ও বিআইডব্লিউটিসি ঘাট সূত্র জানায়, ঈদের ছুটি শুরু হওয়ায় গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকেই রাজধানী ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার যাত্রীরা। ঈদে যাত্রীর চাপ সামলাতে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌপথে চলাচল করছে ১০টি ফেরি। এর মধ্যে ৮টি ফেরি চলাচল করছে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌপথে। এ ছাড়া ৮৭টি লঞ্চ ও দেড় শতাধিক স্পিডবোট চলাচল করছে। নৌপথে দুর্ঘটনা এড়াতে পুলিশ, র‌্যাব, কোস্টগার্ডসহ জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হয়েছে। এরপরও যাত্রীদের চাপ সামলাতে ঘাট কর্তৃপক্ষ অনেকটা হিমশিম খেতে হচ্ছে।

সরেজমিনে বাংলাবাজার ঘাটে দেখা যায়, শিমুলিয়া থেকে আসা প্রতিটি লঞ্চ ও স্পিডবোট যাত্রীতে পরিপূর্ণ। লঞ্চ ও স্পিডবোটে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা হচ্ছে। বাংলাবাজার ঘাটে লঞ্চ ও স্পিডবোট থামানো মাত্রই যাত্রীরা হুড়োহুড়ি করে পন্টুনে নেমে পড়ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘাটে তৎপর থাকলেও যাত্রীদের তীব্র ভিড় থাকায় সব কিছুই নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। একই চিত্র ফেরিঘাটে। শিমুলিয়া থেকে আসা প্রতিটি ফেরিতে যাত্রী ও মোটরসাইকেলে ভরা। তীব্র রোদে প্রায় ঘণ্টা ফেরিতে থাকায় অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছে।

ঢাকা থেকে আসা বরিশালমুখী যাত্রী সরোয়ার হোসেন বলেন, ‘ঢাকা থেকেই যানজট। ঘাটে এসে তীব্র গরম। চারদিকে বালু ওড়ে। মোটরসাইকেল নিয়ে ফেরিতে উঠতে গিয়ে জীবনটা শ্যাষ হয়ে গেছে। তীব্র রোদের তাপ আর গরমে জীবনের বারোটা বেজে যাচ্ছে আমাদের।’

শিমুলিয়া থেকে বাংলাবাজার লঞ্চে আসা যাত্রী আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘লঞ্চে বসে থাকা তো দূরের কথা, পা রাখার জায়গা নেই। প্রচণ্ড ভিড়। গরম আর মানুষের চাপে হাঁপিয়ে উঠেছি আমরা।’

খুলনাগামী মনোয়ার কাজী নামের আরেক যাত্রী বলেন, ‘লঞ্চ ও স্পিডবোটে অতিরিক্ত যাত্রী বহন নিষেধ থাকলেও তা কেউ শুনছে না। ভাড়াও বেশি নিচ্ছে। স্পিডবোট ভাড়া ১৫০ টাকার পরিবর্তে ৩০০ টাকা নিচ্ছে। আর লঞ্চেও ৪৫ টাকার জায়গায় ৬০ টাকা ভাড়া নিচ্ছে। আমরা যাত্রীরা ঈদের সময় জিম্মি হয়ে পড়ি। এখানে প্রশাসন কিছুই দেখে না।’

বিআইডব্লিউটিএর বাংলাবাজার ঘাটের ট্রাফিক পরিদর্শক আক্তার হোসেন বলেন, ‘লঞ্চ-স্পিডবোটে যাত্রীদের ভিড় থাকলেও তা ধারণক্ষমতার বাইরে নয়। তবে এ পাড় (বাংলাবাজার) থেকে বেশি ভাড়া নিচ্ছে না লঞ্চ ও স্পিডবোটের মালিকেরা। শিমুলিয়া ঘাট থেকে বেশি ভাড়া নিলে সেটা আমার জানা নেই।’

বিআইডব্লিউটিসি বাংলাবাজার ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ঈদযাত্রায় দুর্ভোগ কমাতে তিন ঘাটে মোট ১০টি ফেরি চলছে। ফেরিগুলোতে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ সামলাতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। নৌপথে দুর্ঘটনা এড়াতে আমরা সর্বোচ্চ সর্তক অবস্থানে রয়েছি।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন