default-image

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের বাঘমারা বন ক্যাম্প এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন জমা হলো চার দিন পর। গত শনিবার দুপুরে আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিসের দুই ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নেভানো সম্ভব হয়। এ ঘটনায় দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি করে দুই দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। তবে তদন্ত দল তাতে ব্যর্থ হয়ে দুবার সময় বাড়িয়ে নেয়। অবশেষে আজ বুধবার দুপুরে সেই প্রতিবেদন জমা দিয়েছে তদন্ত দল।

তদন্ত প্রতিবেদনে দায়িত্বে অবহেলার জন্য লাউয়াছড়া বন বিট কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, বাঘমারা বন ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত বন প্রহরী মোতাহার হোসেন ও সহযোগী কমিটি লাউয়াছড়া কমিউনিটি টহলদার সদস্য মহসিন মিয়াকে দায়ী করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনাস্থল এলাকায় ২০২০-২১ মৌসুমের জন্য বনায়ন করার পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে সেখানকার আগাছা ও ঝোপঝাড় পরিষ্কার করা হচ্ছিল। এখানে বনায়নের মধ্যে বন্য প্রাণীর খাওয়ার উপযোগী গাছও রোপণ করা হবে। তবে ঝোপঝাড় পরিষ্কারকালে বনের কোনোরূপ ক্ষতি যাতে না হয়, যেমন আগুন ও মাটির নিচ দিয়ে যাওয়া গ্যাসলাইনের বিষয়ে অতিরিক্ত সতর্ক থাকার কথা। আর এসব তদারকির দায়িত্ব ছিল লাউয়াছড়া বন বিট কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, বাঘমারা ক্যাম্পের বন প্রহরী মোতাহের হোসেন ও কমিউনিটি টহলদার দলের সদস্য মহসিন মিয়ার।

তদন্তকালে দেখা যায়, আগুন লাগার পর নেভানোর জন্য দায়ী এই তিনজন তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তাঁদের একজন কমিউনিটি টহলদার সদস্য মহসিন মিয়া ঘটনাস্থলে থাকার পরও দায়িত্বে অবহেলা করেছেন। অথচ বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কাছ থেকে খবর পেয়ে লাউয়াছড়া বন রেঞ্জ কর্মকর্তা শ্রীমঙ্গল থেকে এসে আগুন নেভাতে অগ্নিনির্বাপক দলের সঙ্গে কাজ করেছেন। তবে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, মাত্র দেড় একর বনের কিছু ছোট গুল্ম ও শুকনা পাতা পুড়েছে। গাছের ওপরের অংশ এখনো সবুজ রয়েছে। ফলে বনের তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি।

বিজ্ঞাপন

তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন বাংলাদেশ বন ও জীববৈচিত্র্য কর্মকর্তা মৌলভীবাজার রেঞ্জ কর্মকর্তা মির্জা মেহেদী সারওয়ার ও বন বিভাগের মামলা পরিচালক জুলহাস হাসান। তদন্ত প্রতিবেদনে তাঁরা মোট ১০টি বিষয় উল্লেখ করেছেন। ৭ ও ৮ নম্বর পয়েন্টে উল্লেখ করা হয়, ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগার ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে বনে কোনো ময়লা-আগাছায় কোনোভাবেই আগুন দেওয়া যাবে না বলে পূর্বে নির্দেশ দিয়েছিলেন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা। তাই এখানে আগুন লাগার ঘটনায় নির্দেশ অমান্য করা হয়েছে।

বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, বন বিট কর্মকর্তা, বাঘমারা ক্যাম্প কর্মকর্তাসহ তিনজনের দায়িত্বে অবহেলায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বাংলাদেশ পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (বাপা) সিলেট বিভাগীয় সম্পাদক আবদুল করিম মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনেই বোঝা যায় তিনজনকে দায়ী করা হলেও আগুন লাগার উৎস অস্পষ্ট রেখে দায়সারাভাবে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। বনের ভেতরের কিছু গাছগাছালি ও বেতের ওপর সব সময় অসাধু বনকর্মীদের নজর থাকে। আগুনে পুড়লে পোড়া গাছ ও বেত তাঁরা নিয়ে ব্যবসা করেন। এ দিকটা তদন্ত দলের ভালোভাবে দেখা উচিত ছিল।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন