বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের ২ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালকের (প্রশাসন) সভাপতিত্বে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভায় আবরণহীন তারের পরিবর্তে রাবার কিংবা অন্য বিদ্যুৎ অপরিবাহী আবরণযুক্ত বৈদ্যুতিক তার প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সেই সময় সিদ্ধান্তটি জানিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে চিঠিও দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া উদ্যানের বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা লোকালয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থাপন ও বিদ্যুৎ–সংযোগ প্রদানে বন বিভাগ বাধা দিয়েছে। পরে বন আইন ১৯২৭ (সংশোধিত ২০০০) অনুযায়ী, সংরক্ষিত বনাঞ্চলে বন বিভাগের অনুমতি ব্যতিরেকে বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থাপন, লাইন টানা ও বিদ্যুৎ–সংযোগ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ, এই মর্মে শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

এই বনাঞ্চল ১৬৭ প্রজাতির বৃক্ষ, ২৪৬ প্রজাতির পাখি, ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৩৯ প্রজাতির সাপ, ১৮ প্রজাতির টিকটিকি, ২ প্রজাতির কচ্ছপ, ৫৯ প্রজাতির সরীসৃপ, ২২ প্রজাতির উভচরসহ অনেক বিরল–বিপন্ন প্রজাতির বন্য প্রাণীর আবাসস্থল, প্রজননক্ষেত্র।

বন বিভাগের বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল। উদ্যানটি মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল উপজেলায় পড়েছে। ১৯১৭ সালে তদানীন্তন আসাম সরকার এই উদ্যানকে সংরক্ষিত বনাঞ্চল এবং পরে ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ সরকার জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করে। এই বনাঞ্চল ১৬৭ প্রজাতির বৃক্ষ, ২৪৬ প্রজাতির পাখি, ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৩৯ প্রজাতির সাপ, ১৮ প্রজাতির টিকটিকি, ২ প্রজাতির কচ্ছপ, ৫৯ প্রজাতির সরীসৃপ, ২২ প্রজাতির উভচরসহ অনেক বিরল–বিপন্ন প্রজাতির বন্য প্রাণীর আবাসস্থল, প্রজননক্ষেত্র। দেশের সংরক্ষিত বনের মধ্যে উদ্ভিদ ও প্রাণিবৈচিত্র্যে বনটির গুরুত্ব রয়েছে।

default-image

এই বনাঞ্চলের ভেতর ও আশপাশের এলাকায় ৩৩ কেভি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুতের লাইন রয়েছে। এই লাইনগুলোর তারে কোনো আবরণ নেই। আবরণ না থাকায় বনাঞ্চল ও সংলগ্ন এলাকায় বিচরণের সময় বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে প্রায় প্রতি মাসেই উদ্যানের দু-একটি প্রাণী বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা পড়ছে কিংবা আহত হচ্ছে। এসব প্রাণীর মধ্যে আছে বিরল প্রজাতির উল্লুক, মুখপোড়া হনুমান, চশমাপরা হনুমান, লজ্জাবতী বানর ইত্যাদি।

বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ জানিয়েছে, গত ৯ এপ্রিল শ্রীমঙ্গলের গ্র্যান্ড সুলতান অ্যান্ড টি রিসোর্ট এলাকায় একটি লজ্জাবতী বানর, ১৮ জুন রামনগর এলাকার মুসলিমপাড়ায় একটি চশমাপরা হনুমান, ১৬ জুলাই কালাছড়া বন বিভাগের বিট অফিসের কাছে একটি মুখপোড়া হনুমান, ২৪ জুলাই শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া স্কুলের কাছে একটি বানর এবং ১৩ সেপ্টেম্বর রাধানগর এলাকায় আরেকটি বানর বৈদ্যুতিক তারে স্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছে।

বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী আজ বুধবার প্রথম আলোকে বলেন, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের বিভিন্ন বিরল–বিপন্ন প্রজাতির স্তন্যপায়ী বন্য প্রাণীসহ সার্বিক জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও সংরক্ষণের স্বার্থে জরুরি ভিত্তিতে রাবার কিংবা বিদ্যুৎ অপরিবাহী আবরণযুক্ত বৈদ্যুতিক তার প্রতিস্থাপন প্রয়োজন। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েরও নির্দেশনা আছে। প্রতি মাসে এক-দুটি বিরল প্রজাতির প্রাণী মারা যাচ্ছে। এভাবে প্রতিনিয়ত বন্য প্রাণীর মৃত্যু হতে থাকলে এই এলাকা থেকে এসব প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। এতে বনের জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য বিনষ্ট হবে।

এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যালয়ের মহাব্যবস্থাপক জিয়াউর রহমান আজ প্রথম আলোকে বলেন, চিঠিটি তিনি পেয়েছেন। এই বিদ্যুতের লাইন বহু আগের। বনের ভেতর দিয়ে গেছে। মানুষকে বিদ্যুৎ দিতে হবে। আবার বন্য প্রাণীও সংরক্ষণ করতে হবে। এ বিষয়ে সার্ভে করে সম্ভব হলে রাবার কিংবা বিদ্যুৎ অপরিবাহী আবরণযুক্ত বৈদ্যুতিক তার প্রতিস্থাপনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন