default-image

বোরো ধান চাষাবাদের ওপর নির্ভরশীল মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার নিম্নাঞ্চলের কৃষকেরা। দুই বছর ধরে লাঘাটা নদী পুনঃখননের জন্য দেওয়া বাঁধে একদিকে জলাবদ্ধতা, অন্যদিকে সেচের অভাবে শুষ্ক জমি খাঁ খাঁ করছে। ফলে বোরো আবাদ করতে না পেরে চার গ্রামের তিন শতাধিক কৃষক দুই বছর ধরে ক্ষতি গুনছেন। লাঘাটার পুনঃখনন এখন তাঁদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কৃষকদের অভিযোগ, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ ও রাজনগর উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত লাঘাটা নদীতে দুই বছর ধরে পুনঃখননের কাজ চলছে। নদী খননে সেচ সমস্যার কারণে কমলগঞ্জের ধূপাটিলা, রূপষপুর গ্রামের শতাধিক কৃষক বোরো আবাদ করতে পারছেন না। অন্যদিকে খননকাজের অংশ হিসেবে বাঁধ দেওয়ার কারণে নিম্নাঞ্চল কেওলার হাওর এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। কমলগঞ্জের পতনউষার দুই শতাধিক কৃষক চাষাবাদ করতে পারছেন না। এতে বোরো নির্ভরশীল কৃষকেরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কৃষকেরা বলছেন, লাঘাটা নদীর শমশেরনগর ইউনিয়নের সতিঝিরগ্রাম এলাকায় স্লুইসগেট থাকায় সেচ সুবিধা নিয়ে এর আশপাশের এলাকার কয়েকজন কৃষক বোরো চাষাবাদ করলেও অন্যরা তা থেকে বঞ্চিত।

বিজ্ঞাপন

ক্ষোভ প্রকাশ করে পতনউষার বোরোচাষি আনোয়ার খান, ধূপাটিলা গ্রামের কৃষক আক্তার মিয়া, ফারুক মিয়া, ছমির মিয়া, রেহমান মিয়া, শওকত মিয়া বলেন, নদী খননের জন্য তাঁরা দুই বছর ধরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাঁরা ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকারের কাছে সহায়তা দাবি করেন।

default-image

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, ছোট নদী, খাল ও জলাশয় পুনঃখনন (১ম পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় লাঘাটা খালের ১২৮৩০ মিটার কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা। ২০১৮ সালে নদী পুনঃখননের জন্য সার্ভে সম্পন্ন হলেও কাজ শুরু হয় ২০১৯ সালের ১১ ডিসেম্বর। দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়ন থেকে কমলগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের ১১ কিলোমিটার ৮০০ মিটার ও ১২ কিলোমিটার ৮৩০ মিটার মিলিয়ে ২৪ কিলোমিটার ৬৩০ মিটার খননকাজ হবে। ১১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোহাম্মদ ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স (প্রা.) লিমিটেড কমলগঞ্জ অংশে নদী খননের প্রাক্কলিত মূল্য ৬ কোটি ৩৪ লাখ ৩ হাজার ৮০৭ টাকা। কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল গত বছরের ৩০ নভেম্বর। তবে কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় পুনঃখননের কাজ এখনো ঝুলে আছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসএএসআই অ্যান্ড ইশরাত এন্টারপ্রাইজ ৫ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নিম্নাঞ্চল এলাকার খননকাজ করছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, লাঘাটা পুনঃখননের কাজ শুরুর সঙ্গে সঙ্গে কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিলেও দুই বছর ধরে বোরো আবাদ করতে না পেরে তাঁরা এখন ক্ষুব্ধ। তাঁদের বিস্তীর্ণ বোরো আবাদি জমি পতিত আছে। আবার কেওলার হাওর এলাকার বোরো জমি জলাবদ্ধ হয়ে আছে।

কমলগঞ্জে হাওর ও নদী রক্ষা আঞ্চলিক কমিটির সদস্যসচিব তোয়াবুর রহমান বলেন, কেওলার হাওর এলাকায় যাঁরা জমিতে বোরো রোপণ করেছিলেন, তাঁদের জমি তলিয়ে গেছে। নদী খনন থেকে শুরু করে সবকিছুতেই গোঁজামিল। এতে ক্ষতি গুনছেন সাধারণ কৃষকেরা।

কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দীন বলেন, ‘বিষয়টি আমি গত সপ্তাহে শুনে জেলা পর্যায়ের একটি সভায় সেটি উপস্থাপন করেছি। আবারও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলব।’

এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, নদী খনন করতে গেলে কিছুটা তো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবেই। এই খননকাজ করতে গিয়ে কেউ কেউ উপকৃত হচ্ছেন, আবার কেউ কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সবকিছুর পরে কাজটি করতে হবে। আগামী এপ্রিলের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার জন্য ঠিকাদারকে তাগাদা দেওয়া হচ্ছে।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশেকুল হক বলেন, বিষয়টি নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন