বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

মজনু শাহ সেতু দিয়ে গাজীপুর-কিশোরগঞ্জ, গাজীপুর-নরসিংদীসহ আশপাশের এলাকাগুলোয় যান চলাচল করে। চালকদের অভিযোগ, প্রশাসনের নাকের ডগায় চলছে এমন চাঁদাবাজি। শ্রমিক সংগঠনের নামে প্রতিটি সিএনজি বা ব্যাটারিচালিত রিকশা-অটোরিকশা থেকে আদায় করা হয় ১০ থেকে ২০ টাকা। সুযোগ বুঝে ৩০ টাকা বা তারও বেশি নেওয়া হয়।

সম্প্রতি দেখা যায়, সেতুর দক্ষিণ পাশে সড়কের পাশে চেয়ারে বসে আছেন মো. ফারুক ও মোশারফ নামের দুজন। তাঁদের হাতে বাঁশের লাঠি। কোনো যানবাহন আসতে দেখলেই দৌড়ে নামছেন সড়কে।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে থামানো একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার যাত্রী ছিলেন বৃদ্ধ রোগী ও স্বজনেরা। কিশোরগঞ্জের নিকলী এলাকায় যাচ্ছিলেন তাঁরা। অটোরিকশার চালক আলমগীর হোসেন। তাঁর হাতে ফারুক ও মোশারফ একটি টিকিট ধরিয়ে দিয়ে ২০ টাকা দাবি করেন। কিন্তু আলমগীর তা দিতে না চাওয়ায় বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে বাধ্য হয়ে ২০ টাকা দিয়ে ছাড়া পান আলমগীর।

ঘটনাস্থল থেকে একটু সামনে নিয়ে কথা হয় আলমগীরের সঙ্গে। বলেন, ‘কত কইরা কইলাম ভেতরে অসুস্থ রোগী। কিন্তু তারপরও টাকা ছাড়া পথ ছাড়ে না। এদিকে রোগীরও সমস্যা হচ্ছে। তাই বাধ্য হইয়াই ২০ টাকা দেই।’

চাঁদা আদায় ও গতিরোধের বিষয়ে কথা হয় মো. ফারুকের সঙ্গে। তিনি নিজেকে শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা দাবি করে বলেন, ‘আমরা কোনো চালককে টাকা দিতে বাধ্য করি না। খুশি হয়ে যে যা দেয় তা–ই নিই। সংগঠনের নির্দেশনাতেই ইজারা হিসেবে এ টাকা তোলা হয়।’

সংগঠনের সভাপতি আশরাফুল আলম এ বিষয়ে প্রথম আলোকে বলেন, গতিরোধ করা বা ভয়ভীতি দেখানোর বিষয়টি মিথ্যা। যেকোনো সংগঠন চালাতে গেলে কিছু ব্যয় হয়। সেই ব্যয় মেটাতেই যানবাহন থেকে অল্প পরিমাণে ইজারা নেওয়া হয়।

বিআরটিসির মোটরযান পরিদর্শক বা পুলিশের উপপরিদর্শক পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তা ছাড়া সড়কে তল্লাশিচৌকি বসিয়ে বা গাড়ি থামিয়ে কোনো ধরনের তল্লাশি চালানোর এখতিয়ার কারও নেই। এ আইনের ব্যত্যয় হলে শাস্তির বিধান আছে।

কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ ইফ এম নাসিম বলেন, যানবাহন থেকে চাঁদা আদায়ের বিষয়ে তাঁর জানা নেই। এ ছাড়া এখানে পুলিশেরও সংশ্লিষ্টতার কোনো বিষয় নেই। খোঁজ নিয়ে তিনি ব্যবস্থা নেবেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন