default-image

বান্দরবানের লামায় গতকাল মঙ্গলবার রাতে এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশ ওই কিশোরের ফুফাতো ভাইসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। লামায় বেড়াতে নিয়ে গিয়ে ওই কিশোরকে জিম্মি করে মুক্তিপণ না পেয়ে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

লামা থানার পুলিশের পক্ষ থেকে আজ বুধবার জানানো হয়েছে, গত ২৩ মার্চ কুমিল্লার দেবীদ্বার থেকে দুই কিশোর লামার রূপসীপাড়ায় বেড়াতে যায়। তারা সম্পর্কে ফুফাতো ভাই। তাদের মধ্যে নিহত কিশোরের নাম অলি উল্লাহ (১৭)। লামায় গিয়ে অলি উল্লাহ ও তাঁর ফুফাতো ভাই রূপসীপাড়ার ফয়েজ আহমেদের (৩৫) বাড়িতে ওঠে। ফয়েজের বাড়িও কুমিল্লায়। তিনি রূপসীপাড়ায় শ্বশুরবাড়িতে ঘরজামাই হিসেবে থাকতেন।

পুলিশ জানায়, সেখানে অলিকে আটকে রেখে বাড়িতে ফোন করে দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। মুক্তিপণ না পেয়ে অলি উল্লাহর ফুফাতো ভাই ও ফয়েজ দুজনে মিলে অলিকে হত্যার পর লাশ গুম করেন।

গতকাল রাত তিনটার দিকে রূপসীপাড়া থেকে অলির লাশ মাটিচাপা অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে অলির ফুফাতো ভাই ও ফয়েজকে রূপসীপাড়া ইউনিয়নের বেতঝিরি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বিজ্ঞাপন

হত্যার শিকার কিশোর অলি উল্লাহর বড় ভাই জিলানি বাবু জানান, ২৩ মার্চ তাঁর ছোট ভাই অলি উল্লাহ নিখোঁজ হয়। সেদিন খোঁজাখুঁজি করে কোথাও না পেয়ে তিনি দেবীদ্বার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ২৪ মার্চ লামা থেকে তাঁর ফুফাতো ভাই ও ফয়েজ মুঠোফোনে অলি উল্লাহর মুক্তির জন্য দেড় লাখ টাকা দাবি করেন। তাঁরা অলি উল্লাহর হাত-পা বাঁধা ছবি মুঠোফোনে পাঠিয়ে বারবার মুক্তিপণ দাবি করে আসছিলেন।

লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, দেবীদ্বার থানার জিডি ও হত্যাকাণ্ডের শিকার অলি উল্লাহর পরিবারের সদস্যদের অভিযোগের ভিত্তিতে অপর কিশোর ও ফয়েজের মুঠোফোন নম্বর ট্র্যাকিং করা হয়। মঙ্গলবার তাদের অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যায়। গ্রেপ্তারের পর তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অলি উল্লাহর লাশ উদ্ধার করা হয়।

ওসি বলেন, তাঁরা মুক্তিপণ না পেয়ে এবং নিজেরা ধরা পড়ার ভয়ে গত ২৫ মার্চ অলি উল্লাহকে হত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছেন। অলির লাশের ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন