লালমনিরহাট সদর থানার পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাতে স্থানীয় একটি চড়ক মেলায় জুয়াবিরোধী অভিযানে হিরামানিক গ্রামের বাসিন্দা প্রহ্লাদ চন্দ্র রায় (৪০) ও কাজীর চওড়া গ্রামের রবিউল ইসলাম খানকে (২৫) আটক করে পুলিশ। এ সময় রবিউল হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে রাত ১১টার দিকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। কিন্তু রাত সোয়া ১১টার দিকে সদর হাসপাতালেই রবিউল মারা যান।

রবিউলের পরিবারের সদস্যরা বলেন, রবিউল জুয়া খেলতে নয়, তাঁর সন্তানের জন্য খেলনা কিনতে মেলায় গিয়েছিলেন। আটকের সময় পুলিশের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হলে পুলিশ তাঁকে বেদম মারধর করে। তখন জ্ঞান হারান রবিউল। এরপর হাসপাতালে নিলে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তাঁরা থানায় মামলা করবেন।

নিহত রবিউল ইসলাম খানের ছোট ভাই আরিফ খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার বড় ভাই কাঠের ব্যবসা করেন। তিনি মেলায় গেলে এসআই হালিম (লালমনিরহাট সদর থানার উপপরিদর্শক হালিমুর রহমান) তাঁকে ধরে পুলিশের গাড়িতে জোর করে উঠানোর চেষ্টা করেন। তখন আমার ভাই বলেছেন, আমার তো কোনো দোষ নেই, আমি গাড়িতে উঠব কী জন্য। এসআই হালিম তখন ভাইকে অনেক মারধর করেন, লাথি-গুঁতা মারেন।’ তিনি আরও বলেন, রবিউলের কাছে ব্যবসার টাকা ছিল। তিনি পুলিশকে টাকা দিতে চাননি। টাকা নিয়ে টানাহেঁচড়া করেছে পুলিশ। এ কারণে রবিউলকে পাশবিক নির্যাতন করা হয়েছে। দায়ী পুলিশের বিচার দাবি করেন আরিফ।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন