আজ শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গের পাশের চিত্র এটি। রাহিমা বেগম লাশের অপেক্ষায় থাকা একজন। তাঁর পুত্রবধূ আমেনা বেগমের (২২) লাশের অপেক্ষায় আছেন তিনি। ডিএনএ টেস্টের পর লাশ পাবেন। কিন্তু সেটা কখন, তা তাঁরা জানেন না।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের কর্ণগোপ এলাকার হাশেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের কারখানার নছিলা ভবনের চারতলায় কাজ করতেন আমেনা বেগম। ছয় হাজার টাকা বেতনের চাকরি আমেনার। স্বামী রাজীব হোসেন ও শ্বাশুড়ি রাহিমা বেগমও একই কারখানায় চাকরি করেন। তাঁরা পৃথক ভবনে কাজ করায় প্রাণে বেঁচে গেছেন।

আমেনা বেগম চার বছর ধরে ওই কারখানায় চাকরি করে আসছিলেন বলে জানান স্বজনেরা। তাঁরা পরিবার নিয়ে কারখানা এলাকার পাশে ভাড়া বাসায় থাকেন। তাঁদের বাড়ি ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকায়।

শোকাহত রাহিমা বেগম এই বসছেন, দাঁড়াচ্ছেন, পায়চারি করছেন, আর কিছুক্ষণ পরপর আনমনে বলে উঠছেন, ‘লাশ কী, সব তো আনছে কয়লা...।’

এদিকে মর্গের সামনে ছোট বোনের ছবি নিয়ে অস্থির হয়ে ঘোরাঘুরি করছেন মো. মোস্তফা (২৬)। তাঁর ১৩ বছর বয়সী কিশোরী বোন মোছা. সেলিনা অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে নিখোঁজ রয়েছে। আদরের ছোট বোনের বেঁচে থাকার আশা ছেড়ে দিয়েছেন মোস্তফা। এখন শুধু দগ্ধ লাশ পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন তিনি।

দুলাভাই আবদুল্লাহর রিকশায় করে সেলিনা গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে কারখানায় যায়। বিকেলে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে সেলিনার আর হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। সেলিনার লাশের জন্য মেডিকেল মর্গে এসেছেন বড় ভাই মোস্তফা ও দুলাভাই আবদুল্লাহ।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের কর্ণগোপ এলাকায় হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের কারখানায় ভয়াবহ আগুন লাগে। আজ শুক্রবার দুপুরের পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। গতকাল রাতে ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে তিনজন মারা যাওয়ার খবর পাওয়া যায়। এ ছাড়া আজ ফায়ার সার্ভিস এখন পর্যন্ত ৪৯ জনের লাশ উদ্ধারের খবর জানিয়েছে। লাশগুলো এতটাই পুড়ে গেছে, সেগুলো দেখে চেনা বা শনাক্ত করার উপায় নেই।