বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মেহেদী মাসখানেক চরকান্দি গ্রামে নানাবাড়িতে বেড়াতে আসেন। মাঝেমধ্যেই তিনি পাশের বাড়ির রতন ও সোহানের সঙ্গে মুঠোফোনে লুডু খেলতেন। গতকাল সকালে সোহানের মায়ের মুঠোফোনে মেহেদী ও দুই শিশু লুডু খেলছিল। খেলার একপর্যায়ে জয়-পরাজয় নিয়ে মেহেদীকে গালি দেয় রতন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মেহেদী তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

খেলার একপর্যায়ে জয়-পরাজয় নিয়ে মেহেদীকে গালি দেয় রতন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মেহেদী তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

ওই দিন বিকেলে মেহেদী ওই দুই শিশুকে কাঁঠালবাড়ি এলাকার রেস্তোরাঁয় খাওয়ার প্রস্তাব দেন। সন্ধ্যার দিকে তারা তিনজন পদ্মা সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়কের নির্জন একটি স্থানে যায়। মেহেদী সোহানকে পানি ও চানাচুর কেনার জন্য দোকানে পাঠান। এরপর রতনের গলায় বেল্ট পেঁচিয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন তিনি। সোহান সেখানে ফিরে রতনের খোঁজ করলে মেহেদী জানান, সে বাড়ি চলে গেছে। পরে মেহেদী সোহানকে বাংলাবাজার ঘাট এলাকায় গিয়ে বৈদ্যুতিক তার পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করেন। সোহানের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে মেহেদী সেখান থেকে পালিয়ে যান।

রতন বাড়ি না ফেরায় তার পরিবারের লোকজন তাকে খুঁজতে থাকেন। পরে সোহানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত সাড়ে ১০টায় পুলিশ মেহেদীকে তাঁর নানার বাড়ি এলাকা থেকে আটক করে। পরে মেহেদীকে নিয়ে পদ্মা সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়কের সীমানা এলাকা থেকে রাত ১২টায় রতনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

রতনের মা জরিনা বেগম বলেন, ‘সামান্য একটা ঘটনায় মেহেদী আমার বুকের ধনডারে মাইরা ফালাইলো। আমার বাজানডারে যে মাইরা ফালাইছে, আমি ওর বিচার চাই, ফাঁসি চাই।’

শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিরাজ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, মুঠোফোনে লুডু খেলা নিয়ে দুই শিশুর সঙ্গে মেহেদীর কথা–কাটাকাটি হয়। রতনকে হত্যার কথা মেহেদী স্বীকার করেছেন। রতনের স্মার্টফোনটি মেহেদীর কাছে পাওয়া গেছে।

ওসি মো. মিরাজ হোসেন বলেন, মেহেদী তাঁর পরিবারের সঙ্গে ঢাকায় একটি বস্তিতে থাকেন। মাসখানেক আগে নানার বাড়িতে এসেছেন। এ ঘটনায় রতনের বাবা জসিম মোল্লা বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন। ওই মামলায় মেহেদীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন