default-image

ফরিদপুরের সালথা উপজেলা সদরে ৫ এপ্রিল রাতের সহিংসতার ঘটনায় করা ছয়টি মামলার আসামি মো. ফয়সাল হাসান (৩৮)। তিনি চরভদ্রাসন উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি চরভদ্রাসন উপজেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক। এ ছাড়া তিনি চরভদ্রাসন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদের উপনির্বাচনে (যে নির্বাচনের ফলাফল স্থগিত করা হয়েছে) আওয়ামী লীগের প্রার্থী।

ওই ঘটনায় হওয়া ছয়টি মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি ৩২০ জন। তাঁদের ৩১৯ জনই সালথা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামের বাসিন্দা। শুধু ফয়সাল হাসান চরভদ্রাসনের বাসিন্দা। তাঁকে এসব মামলায় আসামি করার বিষয়ে সালথা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মারুফা সুলতানা খানের ভাষ্য, ঘটনার দিন ফয়সাল হাসান নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি উসকানিমূলক লেখা পোস্ট করেন। সেই পোস্ট অনেকে শেয়ার করেন। সহিংসতা সৃষ্টিতে এটি ভূমিকা রেখেছে বলে তাঁর ভাষ্য।

এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ৫ এপ্রিল লকডাউনে স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়টি সহকারী কমিশনার (ভূমি) মারুফা সুলতানা খানের তদারক করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নানা গুজবের সৃষ্টি হয়। এর জের ধরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত সালথা উপজেলা সদরে তাণ্ডব চলে। সালথা উপজেলা কমপ্লেক্স, ভূমি অফিস, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সসহ আশপাশের এলাকায় অগ্নিসংযোগ ও ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

বিজ্ঞাপন

মামলার আসামি হওয়ার বিষয়ে মো. ফয়সাল হাসানের ভাষ্য, একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে সালথার ঘটনা নিয়ে খবর দেখে রাত ১১টার দিকে তিনি একটি পোস্ট দেন। ওই পোস্টের নিচে তথ্যসূত্রও ছিল। রাত দুইটার দিকে মারুফা সুলতানা খান তাঁকে ফোন করে পোস্টটি মুছে ফেলতে বললে তিনি সেটাই করেন। পরে সালথা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শহীদুল ইসলামের ফোন পেয়ে তিনি জানতে পারেন, ছয় মামলার আসামি তিনি।

চরভদ্রাসন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘লেখা পোস্ট করার জন্য মামলার আসামি করে হয়রানি করা মেনে নেওয়া যায় না। আমি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করি। তাঁকে যদি অন্যায়ভাবে হয়রানি করা হয়ে থাকে, তারও বিচার হতে হবে।’

এ ব্যাপারে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিকুজ্জামান বলেন, এজাহারে নাম থাকলেই কেউ আসামি হয়ে যায় না। এজাহারভুক্ত আসামিদের ঘটনার বিষয়ে কার কী ভূমিকা ছিল, তা যাচাই-বাছাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে পুলিশ অভিযোগপত্র জমা দেবে। এ ক্ষেত্রে কোনো নিরীহ ব্যক্তির হয়রানির সুযোগ নেই।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন