রাত ১০টার দিকে মঞ্চে লেজার শোর পর্দা লাগানো হয়। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, ছেষট্টির ছয় দফা, উনসত্তরের গণ–অভ্যুত্থান, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিত ভাষণ, ২৫ মার্চের কালরাত্রিতে পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ, মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন আন্দোলন–সংগ্রাম, শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন, বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের মুক্তিযুদ্ধে বিভিন্ন অবদানের চিত্র লেজার শোর মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে চলমান পদ্মা সেতু, মেট্টোরেল, মাতারবাড়ি তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রসহ ২৩টি বড় প্রকল্পের তথ্যচিত্র তুলে ধরা হয়। এছাড়া পদ্মার তীর রক্ষা বাঁধ, সাবমেরিন কেব্‌লে পদ্মার তলদেশ দিয়ে দুর্গম চরাঞ্চলে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া, ভাষাসৈনিক ডা. গোলাম মাওলা উড়ালসেতুসহ বাস্তবায়িত বিভিন্ন প্রকল্পের চিত্রও উপস্থাপন করা হয়।

নড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও দলীয় নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।

নড়িয়া সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী হুমায়ুন কবীর বলে, ‘বই পড়ে, স্বজনদের কাছে গল্প শুনে মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে জেনেছি। আজ লেজার শোর মাধ্যমে বায়ান্নার ভাষা আন্দোলন থেকে স্বাধীনতা অর্জন পর্যন্ত ঘটনাবলির তথ্যচিত্র দেখলাম তন্ময় হয়ে। দেশ সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে দেখে গর্ববোধ করছি।’

বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল লতিফ দেওয়ান প্রথম আলোকে বলেন, ‘৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে অনুপ্রাণিত হয়েছিলাম। সেই সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি যখন আজ চোখের সামেন একে পর এক ভেসে উঠছিল, তখন আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ছিলাম।’

শরীয়তপুর–২ আসনের সাংসদ পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম প্রথম আলোকে বলেন, পদ্মা নদীর তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের কারণে নড়িয়াবাসীর ৩০ বছরের কান্না থেমেছে। গত দুই বছরে নড়িয়ার একটি বাড়িও পদ্মায় বিলীন হয়নি। এটা বিরাট অর্জন। তাই স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে এ অঞ্চলের মানুষ উৎসব পালন করেছে। বাঁধের নাম দিয়েছে জয় বাংলা অ্যাভিনিউ।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন