বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ভোজ্যতেল, জ্বালানি গ্যাস, ময়দা, পেঁয়াজ ও বিভিন্ন ধরনের সবজির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় শাহ আলমের মতো হোটেল-রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে শরীয়তপুরের বিভিন্ন লঞ্চ ও ফেরিঘাটের হোটেল-রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা খাদ্যের দাম বাড়াতে পারছেন না। তাঁরা পরোটার আকার ছোট করেছেন, প্লেটে খাদ্যের পরিমাণ কম দিচ্ছেন। এতে ক্রেতারা বিরক্ত হচ্ছেন।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, হোটেল-রেস্তোরাঁয় খাদ্য প্রস্তুত করতে ভোজ্যতেল, ময়দা, আলু, কাঁচা পেপে, কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, রসুন, আদাসহ নানা ধরনের পণ্য ব্যবহার করা হয়। আর রান্না করার কাজে ব্যবহার করা হয় জ্বালানি গ্যাস। গত দুই মাসে প্রতিটি পণ্যের দাম বেড়েছে। খোলা সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে প্রতি লিটারে ৩৮ টাকা, ময়দার দাম বৃদ্ধি পেয়েছে কেজিতে ৮ থেকে ১০ টাকা। জ্বালানি গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে কেজিপ্রতি ২৫ হতে ৩৫ টাকা। প্রতি কেজি আলুতে বৃদ্ধি পেয়েছে ৮ টাকা হতে ১০ টাকা। কাঁচা পেঁপেতে ১৫-২০ টাকা, কাঁচা মরিচে ৩০-৪০ টাকা, আদায় ২০-৩০ টাকা, রসুনে ৩০-৩৫ টাকা, পেঁয়াজে বৃদ্ধি করা হয়েছে ১৫ টাকা।

চাঁদপুর–শরীয়তপুর নৌপথের নরসিংহপুর ফেরিঘাটের হোটেল ব্যবসায়ী আক্তার দিদার বলেন, ঘাট এলাকাগুলোয় ভ্রাম্যমাণ ক্রেতা বেশি থাকে। তাঁরা হোটেলে খাওয়ার সময় একটু সাশ্রয় খোঁজেন। সেখানে হোটেল ব্যবসায়ীদেরও প্রতিযোগিতা থাকে কম মূল্যে ভালো খাবার পরিবেশন করার। এখন যা অবস্থা হয়েছে, প্রতিদিনই কোনো না কোনো পণ্যের দাম বাড়ানো হচ্ছে। কিন্তু হঠাৎ তাঁরা খাদ্যপণ্যের দাম বাড়াতে পারছেন না। দাম বাড়ালে ক্রেতা পাওয়া যায় না। এভাবে কি ব্যবসা চালানো যায়?

জাজিরার সাত্তার মাদবর, মঙ্গল মাঝির ঘাটের মোস্তফা হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে প্রতিদিন ১৫ লিটার সয়াবিন তেল, ২৫ কেজি ময়দা, ও অন্তত ৫০ কেজির বিভিন্ন সবজি ব্যবহার করা হয়। রান্নার কাজ করতে ১৫ কেজি জ্বালানি গ্যাস ব্যবহার করা হয়। পণ্যগুলোর দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন প্রতিদিন তাঁদের অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ টাকা।

প্রতিষ্ঠানটির মালিক মোস্তফা মৃধা প্রথম আলোকে বলেন, ‘নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় আমরা দিশেহারা। এখন ব্যবসাটি টিকিয়ে রাখতে লড়াই করছি। জানি না কতদিন লোকসান গুনতে গুনতে এ লড়াই চালিয়ে যাব?’

শরীয়তপুর জেলা বিপনন কর্মকর্তা ইউসুফ হোসেন বলেন, ভোজ্যতেলসহ বিভিন্ন নিত্যপণের যে দাম সরকার নির্ধারণ করে দিয়েছে, তা মনিটরিং করা হচ্ছে। সেখানে কোনো ব্যত্যয় হয় কি না, তা দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বাজারের খাদ্য প্রস্তুত প্রতিষ্ঠানগুলো কিছুটা বিপাকে পরেছেন। নানা সীমাবদ্ধতার কারণে তারা নিত্যপণ্যের দামের সঙ্গে তাল মিলিয়ে খাদ্যসামগ্রীর দাম নির্ধারণ করতে পারছেন না।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর শরীয়তপুর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সুজন কাজী প্রথম আলোকে বলেন, হোটেল ও রেস্তোরাঁয় ব্যবহৃত কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি পাওয়া ওই ব্যবসায়ীরা বিপাকে পরেছেন। অনেক ব্যবসায়ী খাদ্যপণ্যের দাম বাড়িয়েছেন, পণ্যের সাইজ ছোট করেছেন। ব্যবসায়ীরা যে পদক্ষেপই নেন না কেন, তাতে যেন ভোক্তাদের কল্যাণ হয়। ভোক্তাদের হয়রানি ও ঠকানো যাবে না।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন