default-image

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় এক মাস আগে নিখোঁজ হওয়া জাতীয় পার্টির নেতা আনোয়ার হোসেনের (৪০) গলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার রাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের দরবেশ হাটের সওদাগরপাড়া এলাকার নিজ গরুর খামারের পেছন থেকে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় তাঁর লাশটি উদ্ধার করা হয়।

আনোয়ার হোসেনের লাশ উদ্ধারের সময় উপস্থিত ছিলেন সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকারিয়া রহমান, লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আহসান হাবিব, লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকের হোসাইন মাহমুদ ও লোহাগাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রাশেদুল ইসলাম।

আনোয়ার হোসেন লোহাগাড়া সদর ইউনিয়নের দরবেশ হাটের সওদাগরপাড়া এলাকার মৃত আহমদ হোসেনের ছেলে ও পেশায় পশু ব্যবসায়ী। তিনি উপজেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও জাতীয় যুব সংহতি লোহাগাড়া উপজেলা শাখার সহসভাপতি ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ ডিসেম্বর দরবেশ হাটের সওদাগরপাড়া এলাকায় নিজের গরুর খামার থেকে লোহাগাড়া সদরের বটতলীর ভাড়া বাসায় ফেরার সময় নিখোঁজ হন আনোয়ার হোসেন। পরের দিন সকালে তাঁর ছোট ভাই সেলিম উদ্দিন লোহাগাড়া থানায় একটি নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে ২১ জানুয়ারি আনোয়ারের স্ত্রী নার্গিস আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন।

নিখোঁজের পর থেকে বিভিন্ন সোর্স ও প্রযুক্তির মাধ্যমে জাতীয় পার্টির নেতাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালায় পুলিশ। পরে গতকাল কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির থেকে আনচার উল্লাহ (২১) নামের গরুর খামারের (আনোয়ার হোসেনের) একজন কর্মচারী ও স্থানীয় এক কিশোরকে (১৭) আটক করা হয়। তাঁদের দেওয়া স্বীকারোক্তি ও দেখানো তথ্য অনুযায়ী গতকাল দিবাগত রাত দেড়টার দিকে নিজের গরুর খামারের পেছন থেকে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় আনোয়ারের গলিত লাশটি উদ্ধার করা হয়।

লোহাগাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রাশেদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, আনোয়ার হোসেন নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টায় ছিল পুলিশ। বিভিন্ন সোর্স ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে আনোয়ারের গরুর খামারের পলাতক এক কর্মচারী ও এক কিশোরকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যমতে, আনোয়ারের মাটিচাপা দেওয়া গলিত লাশটি উদ্ধার করা হয়।

রাশেদুল ইসলাম আরও বলেন, খামারের কর্মচারীদের বেতন দেওয়া ও গালমন্দ করার কারণে আনোয়ারের সঙ্গে কর্মচারীদের মনোমালিন্য ছিল। ওই মনোমালিন্যের জের ধরে খামারের কর্মচারীরা ৩০ ডিসেম্বর রাতে তাঁকে প্রথমে কোদালের সাহায্যে মাথায় আঘাত করেন। এ সময় তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান। এরপর তাঁকে ছুরিকাঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত হন ঘাতকেরা। পরে ওই দিন দিবাগত রাত দেড়টার দিকে খামারের পেছনে তাঁর লাশ মাটিচাপা দেওয়া হয়। আজ শনিবার সকালে তাঁর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন