বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত পলাশের মা পলি বেগম বাদী হয়ে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় লোহাগড়া থানায় মামলা করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে ওই ইউনিয়নের দোয়া মল্লিকপুর গ্রামের মো. শাহিদুর রহমানকে। তিনি গতবার মল্লিকপুর ইউপি নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে পরাজিত হন। তাঁর অন্য দুই ভাই মো. শরিফুল ইসলাম ও মনিরুল ইসলামও আসামি হয়েছেন। এ ছাড়া লোহাগড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সজিব মুসল্লি ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মোল্লাকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় ২২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ৮-৯ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

default-image

সংবাদ সম্মেলনে নিহত পলাশের স্ত্রী জেরিন আকতার লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তিনি বলেন, শাহিদুর রহমান মল্লিকপুর ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করবেন। এ নির্বাচনে তাঁর পক্ষে পলাশকে প্রচারণা চালাতে বলেছিলেন। তাঁর পক্ষে প্রচারণা না চালালে পলাশকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মোল্লার সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক বিরোধ হয়। এ নিয়েও তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। নিহত পলাশ আগামীতে উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদপ্রত্যাশী ছিলেন। শাহিদুর ও রাশেদ এলাকায় একই পক্ষ। নিহত পলাশ একসময় ওই পক্ষে ছিলেন। কিন্তু দেড় বছর আগে ওই পক্ষ ত্যাগ করেন। তিনি মল্লিকপুর ইউপি নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী এস এম ফরিদুজ্জামানের পক্ষে কাজ করছিলেন। এসব কারণে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।

জেরিন আকতার অভিযোগ করেন, ‘এখনো পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। মামলা তুলে নিতে আমাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমরা আতঙ্কে আছি। আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চাই।’ সংবাদ সম্মেলনে পলাশের এক মাস বয়সী একমাত্র শিশুপুত্রও ছিল। জেরিন আকতার কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘এই শিশু বাচ্চাকে নিয়ে এখন আমি কীভাবে বেঁচে থাকব?’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে পলাশের বাবা খোকন শেখ, মা পলি বেগম, বোন আন্নি ইসলাম, ছোট ভাই পিয়াস মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।

লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আবু হেনা জানান, আসামিরা পালাতক। তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। প্রয়োজন হলে পরিবারের সব ধরনের নিরাপত্তা দেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন