বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

রবিউল ইসলামের বাড়ি মিরপুর উপজেলার তালবাড়িয়া ইউনিয়নে। এ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তৌসিফ আহাম্মেদ সোহান। আর মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হান্নান মন্ডল।

১১ নভেম্বর তালবাড়িয়াসহ মিরপুর উপজেলার ১১টি ইউপিতে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যে নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছেন প্রার্থীরা। গত ২৩ অক্টোবর তালবাড়িয়া ইউনিয়নে একটি এলাকায় নৌকার প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় নামেন নেতারা। সেখানে বক্তব্য দেন জেলা যুবলীগ সভাপতি রবিউল ইসলাম। তাঁর সেই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক লাইভে প্রচার করেন অনেকে।

ভিডিওতে রবিউল ইসলামকে বলতে শোনা যায়, ‘আমাকে বারুইপাড়া, বহুলবাড়িয়ায় সময় দিতে হয়। আমি একটা হুংকার দিয়েছিলাম বাইরুপাড়ায় ইউনিয়নে। আমাকে বাদে তারা মিটিংই করছে না। এখন সেখানকার নেতারা আমাকে ছাড়া প্রচারণা চালাচ্ছে না, তারা আমাকে ডাকছে।’ তিনি বলেন, ‘আমি রবিউল, আমি কুষ্টিয়া জেলার মাস্তান, আমাকে কুষ্টিয়া জেলা মাস্তানির সার্টিফিকেট দিয়েছে। খোকসা থেকে দৌলতপুর পর্যন্ত (জেলার দুই প্রান্ত) যত লোক আছে, মাস্তান আছে, আমার হাতে চলে।’

সাবেক এক চেয়ারম্যানের নাম নিয়ে রবিউল বলেন, ‘আমি প্রয়োজনে তাকে (সেই চেয়ারম্যান) উঠিয়ে নেব, ওকে বাড়ি থেকেই বেরাতে দেব না। আমি যদি মনে করি, কালই এটা করতে পারি। ওকে কুষ্টিয়া শহরে আসতে দেব না তাই পারি। প্রয়োজনে আলফার মোড়ে ওর অফিসে আসা বন্ধ করে দেব। দেখি ওর কোন বাপ ঠেকায়।...আমার ক্ষমতা দেখাব। এবার বুঝবি ক্ষমতা কত প্রকার কী কী এবার দেখিয়ে দেব, এবার দেখিয়ে দেব।’

রবিউল বলেন, ‘আমরা শত শত ছেলেপেলে। না খেয়ে মরে যাচ্ছে। মাস্তান। চায়ের বিল দেওয়ার ভয়ে পালিয়ে বেড়ায়। আমার রুবেল-নভেল গ্রুপ, আমার বাদশা গ্রুপ, আমরা সজিব আইছে তার একটা গ্রুপ মজমপুর গেটে আছে, আমার সম্রাট গ্রুপ এই রকম বহু গ্রুপ আমার আছে।’

একপর্যায়ে রবিউল বলেন, ‘মিরপুর থানার ওসির সাথে কথা হয়েছে তিনি আমাকে কোন ঝামেলা করতে বারণ করেছেন। ওসি বলেছেন ২৭ তারিখের পর তিনি (ওসি) নৌকার ভোট করবেন। আপনারা করবেন কেন।’

তবে মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা বলেন, রবিউল ইসলামের সঙ্গে একবার কথা হয়েছিল, তাঁকে এলাকার পরিবেশ শান্ত রাখার জন্য বলা হয়েছে। তাঁকেও শান্ত থাকতে বলা হয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচন করতে যা যা পদক্ষেপ নেওয়া দরকার, তা নেওয়ার কথাও বলেছেন। তবে নৌকার ভোট করার বিষয়ে তাঁর সঙ্গে কোনো আলাপ হয়নি।

ওসির নৌকার ভোট করার প্রসঙ্গে যুবলীগ নেতা রবিউল ইসলাম বলেন, এমন কথা তিনি বলেননি। স্থানীয় নেতা–কর্মীরা তাঁকে অভিযোগ করেছিলেন—ওসি বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন। এরপর ওসির সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। ওসি তাঁকে শান্ত থাকার জন্য বলেছেন। তিনি প্রশাসনের লোক, সরকারি দলের যাতে কোনো সমস্যা না হয়, সেটি তিনি দেখবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।

তালবাড়িয়া ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হান্নান মন্ডল বলেন, বক্তব্যটি তিনিও শুনেছেন। এমন বক্তব্য দেওয়া ঠিক না। ওই বক্তব্যের পর গত ১০–১২ দিন তিনি মাঠে নামতেই পারেননি। শুক্রবার কোনোমতে নেমেছিলেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন