স্কুলের প্রধান ফটক পেরিয়ে প্রবেশ করতেই পিচঢালা পথ। দুই দিকে বিশাল দুটি মাঠ। সহজেই নজর কেড়ে নেয় পাকুড়গাছটি। এর পাশে আরেকটি শতবর্ষী বটগাছ ছিল। কয়েক বছর আগে ঝড়ে উপড়ে গেছে।

স্কুলের প্রবীণ শিক্ষার্থী শহরের রাধাবল্লভ এলাকার বাসিন্দা মোকাররম হোসেন। বয়স তাঁর ৯৩ বছর। তিনি ৮৩ বছর আগে এই স্কুলে তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিলেন। ১৯৪৫ সালে ম্যাট্রিক ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি আধো আধো গলায় বললেন, ‘সেই ছোটবেলা থেকেই দুটি গাছ পাশাপাশি দেখেছি। একটি বট আর অন্যটি পাকুড়। শুনেছি, স্থানীয় জমিদারেরা গাছটি রোপণ করেন। গাছটির কথা মনে হলে যেন ফিরে যাই সেই শৈশবের দিনগুলোতে।’

গাছটির বয়স কত জানা যায় না। তবে ১৮৩২ সালে স্কুল প্রতিষ্ঠার আগে কিংবা পরে কোনো এক সময় এই গাছটি রোপণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রবীণ শিক্ষার্থীরা।

প্রকৃতি ও পরিবেশবিষয়ক লেখক মোকারম হোসেন জানান, এ ধরনের শতবর্ষী বৃক্ষ আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। এ ধরনের গাছগুলো আবহমানকাল থেকে আমাদের সংস্কৃতিচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। বট-পাকুড়ের ছায়া-মায়ার সঙ্গে বাঙালির নাড়ির অবিচ্ছেদ্য সংযোগ রয়েছে। আমাদের প্রকৃতি, পরিবেশ ও লোকজীবনে এসব বৃক্ষের বৈচিত্র্যপূর্ণ প্রভাব রয়েছে। এই পাকুড়গাছটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন