বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

রায়বাড়ির ষষ্ঠ পুরুষ তুষারকান্তি রায় এখন ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন। তিনি পূর্বপুরুষের ইতিহাস রচনার কাজে হাত দিয়েছেন। তিনি এবং স্থানীয় প্রবীণ মানুষের কাছ থেকে জানা গেল রায়বাড়ি ও এই মন্দিরের ইতিহাস।

১৮৩৫ থেকে ১৮৪০ সালের কোনো এক সময় বরিশালের বাবুগঞ্জ এলাকা থেকে বৃন্দাবনচন্দ্র রায় নামে এক ব্যক্তি মঠবাড়িয়া উপজেলার মিরুখালী গ্রামে বসতি স্থাপন করেন। প্রথমে চুনের ব্যবসা করতেন। এ ব্যবসা করে অনেক টাকা ও সম্পদের মালিক হন বৃন্দাবন। এরপর তিনি বাড়িতে নারকেল তেলের কারখানা করেন। নারকেল তেল বজরা নৌকায় করে ভারতের কলকাতায় নিয়ে বিক্রি করা হতো। তেলের ব্যবসার সুবাদে বৃন্দাবন রায়ের সঙ্গে ইংরেজ বণিকদের সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। ইংরেজদের সঙ্গে সম্পর্কের সূত্র ধরে তিনি ইংরেজ সরকারের কাছ থেকে জমিদারি পত্তন নেন। পিতার মৃত্যুর পর জমিদারি দেখভাল করতেন বৃন্দাবন রায়ের ছোট ছেলে পূর্ণচন্দ্র রায়। ১৯০৫ সালে পূর্ণচন্দ্র রায় বাড়িতে প্রতিষ্ঠা করেন এই দুর্গামন্দির।

সরেজমিন দেখা গেছে, মন্দিরের সিঁড়ির আটটি ধাপ রয়েছে। সিঁড়ির দুই পাশে রয়েছে হাতির শুঁড়ের মতো শিল্পকর্ম। চিনামাটির কোসন (থালা) ভেঙে সিঁড়ি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। এতে সিঁড়ির সৌন্দর্য ফুটে ওঠে। মন্দিরের ফটকের খাম্বায় ও ভেতরে রয়েছে ফুল, তরুলতাসদৃশ কারুকাজ।

তুষারকান্তি রায় জানান, বৃন্দাবনচন্দ্র রায় তেলের ব্যবসা করে প্রচুর অর্থ উপার্জন করেন। এরপর জমিদারি থেকে তাঁর সম্পদ বৃদ্ধি পায়। বৃন্দাবনচন্দ্র রায়ের পর জমিদারির দায়িত্ব নেন ছোট ছেলে পূর্ণচন্দ্র রায়। তিনি মূলত বাড়িতে দালানকোঠা ও দৃষ্টিনন্দন মন্দির তৈরি উদ্যোগ নেন।

রায়বাড়ির জৌলুশ সম্পর্কে বলতে গিয়ে তুষার জানান, দুর্গামন্দিরে মহিষ বলি দেওয়া হতো। জাঁকজমকভাবে উদ্‌যাপিত হতো পূজা উৎসব। জমিদারি থাকার সময় রায়বাড়ির সামনে থেকে জুতা পরে ও মাথায় ছাতা দিয়ে হাঁটা নিষেধ ছিল।

তবে লোকমুখে প্রচলন রয়েছে, রায় পরিবার গুপ্তধন পেয়ে বিত্তশালী হয়েছিলেন। এ কাহিনির পেছনে একটা ঘটনা রয়েছে। কলকাতায় তেল বিক্রি করে পাওয়া রৌপ্যমুদ্রা নৌকার পাটাতনের নিচে রাখা হতো। একবার একটি নৌকার মধ্যে থাকা রৌপ্যমুদ্রা নিতে ভুলে যায় রায় পরিবার। ওই নৌকাটি ভাড়া নেন জনৈক ব্যক্তি। তিনি নৌকায় প্রচুর রৌপ্যমুদ্রা দেখে অবাক হয়ে যান। পরে খবর পেয়ে রায় পরিবার মুদ্রাসহ নৌকাটি বাড়িতে নিয়ে যায়। এর পর থেকে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে রায়বাড়ির লোকজন গুপ্তধন পেয়েছেন।

দৃষ্টিনন্দন মন্দিরটি সংরক্ষণ করতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা জরুরি। মঠবাড়িয়া শেরেবাংলা সাধারণ পাঠাগারের সম্পাদক নূর হোসাইন মোল্লা বলেন, মিরুখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বাজার, প্রতিষ্ঠাসহ জনহিতৈষী কাজে রায় পরিবার যুক্ত ছিল। সম্ভ্রান্ত হিন্দু পরিবার হিসেবে তাদের খ্যাতি রয়েছে। স্থানীয় মুসলিম পরিবারগুলোর সঙ্গে তাদের সুসম্পর্ক ছিল। এ বাড়ির অধিকাংশ সদস্য শিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত। রায়বাড়ির মন্দিরসহ পুরোনো স্থাপনাগুলো সংরক্ষণের জন্য সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন