আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৩ অক্টোবর দুপুরে শারদীয় দুর্গাপূজায় কুমিল্লা নগরের ঠাকুরপাড়া কালীতলা এলাকার রক্ষাময়ী কালীমন্দিরের ভেতরে প্রতিমা ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও মারধরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পরের দিন ১৪ অক্টোবর কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানার উপপরিদর্শক মো. আলমগীর বাদী হয়ে ২৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করে মামলা করেন। ওই মামলায় কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর গোলাম কিবরিয়া ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর একরাম হোসেনকে আসামি করা হয়। তাঁরা ওই মামলায় উচ্চ আদালত থেকে আট সপ্তাহের জামিনে ছিলেন। জামিনে থেকেই তাঁরা নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়ী হন।

জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ২১ জুন জেলা ও দায়রা জজ মো. আতাবুল্লাহর আদালতে হাজিরা দেন তাঁরা। একই সঙ্গে জামিনের আবেদন করেন। আদালতের বিচারক তাঁদের জামিন নামঞ্জুর করে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বর্তমানে তাঁরা কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন। ওই দুই কাউন্সিলর টানা তিনবারের নির্বাচিত কাউন্সিলর।

কারাগারে প্রবেশের আগে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর একরাম হোসেন প্রথম আলোকে বলেছিলেন, মণ্ডপে হামলার সময় তিনি এলাকাবাসীর পাশে ছিলেন। এটা সবাই দেখেছেন। তাঁর এলাকার সব ধর্মের মানুষ তাঁকে ভোট দিয়েছেন। রাজনৈতিক কারণে ও ভোটে পরাজিত একটি মহল তাঁকে মামলা দিয়ে হয়রানি করার জন্য এ কাজ করেছেন। যখনই কোনো কিছু ঘটে তখনই তাঁর নামটা সেখানে জুড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর গোলাম কিবরিয়া নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় মণ্ডপের মামলা নিয়ে বলেছিলেন, ‘কোনো ঘটনা হলেই আমার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়। এটাও তেমন মামলা। আমার এলাকায় কোনো কিছু হয়নি। অথচ আমাকে আসামি করা হয়েছে।’

এদিকে ২০২০ সালের ৩১ মার্চ নগরের সংরাইশ এলাকায় বাবু মিয়া নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। এ ঘটনায় কুমিল্লার ১ নম্বর আমলি আদালতে বাবু মিয়ার স্ত্রী পলিন আক্তার বাদী হয়ে ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. জাহাঙ্গীর হোসেনসহ নয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। কাউন্সিলর জাহাঙ্গীরসহ আট আসামি ২৯ জুন কুমিল্লার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আব্বাস উদ্দিনের আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। আদালতের বিচারক জাহাঙ্গীরসহ পাঁচ আসামির জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অন্য তিনজনকে জামিন দেন। আর একজন পলাতক আছেন।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, সিটি করপোরেশনের ২৭টি সাধারণ ওয়ার্ডের মধ্যে নির্বাচিত ৩ জন কাউন্সিলর কারাগারে আছেন। আগামী ৪ জুলাই নবনির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের শপথ হওয়ার কথা রয়েছে। শপথের আগেই তাঁদের বিষয়টি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে জানানো হবে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ মোতাবেক করণীয় ঠিক করা হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন