বিজ্ঞাপন

মেয়েটির পরিবার সূত্রে জানা যায়, চার বছর আগে প্রতিবেশী জালালের মাধ্যমে ঢাকায় একটি পরিবারের কাছে মেয়েটিকে গৃহকর্মীর কাজে পাঠানো হয়। ওই শিশুকে প্রতি মাসে সাড়ে তিন হাজার টাকা বেতন দেওয়ার কথা ছিল। প্রথম বছর যোগাযোগ থাকলেও তিন বছর ধরে মেয়ের সঙ্গে তাঁরা যোগাযোগ করতে পারেননি। মেয়ের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে কিংবা দেখা করতে চাইলে দুর্ব্যবহার করা হতো। কৌশলে মিথ্যা কথা বলে মেয়েটিকে আড়াল করার চেষ্টা করা হতো। বারবার চেষ্টা করেও কোনোভাবেই মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না।

শুক্রবার রাতে ঢাকা থেকে ওই দম্পতি মেয়েটির বাবাকে ফোন করে মেয়েকে নেওয়ার জন্য ময়মনসিংহ শহরের পাটগুদাম ব্রিজ মোড়ে আসতে বলেন। কথামতো শনিবার দুপুরের মধ্যেই ব্রিজ মোড়ে এসে অপেক্ষা করতে থাকেন মেয়েটির বাবা। অতঃপর সেই দম্পতি মেয়েটিকে তার বাবার কাছে ফেরত দেন। এ সময় বাবা খেয়াল করেন, তাঁর মেয়ের দুটি হাতেই আগুনের পোড়া দাগ। পেটে, পিঠে ও পায়ে ক্ষত ও জখমের চিহ্ন। পরে মেয়েটি তার ওপর চালানো নির্যাতনের বিষয়টি খুলে বলে। পরিস্থিতি ঘোলাটে দেখে সন্ধ্যায় দ্রুত ওই দম্পতি সেখান থেকে সটকে পড়ার চেষ্টা করেন। এ সময় মেয়েটির বাবার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এসে ওই দম্পতিকে আটক করে পুলিশে দেন। আর মেয়েটিকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। এ ঘটনায় শনিবার রাতেই মিজানুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী শারমিন রহমানকে আসামি করে মামলা করেন মেয়েটির বাবা।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ তালুকদার বলেন, আসামি মিজানুর ব্যাংক কর্মকর্তা। তাঁরা স্বামী-স্ত্রী ইন্দিরা রোডের একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকেন। সেই বাসায় মেয়েটির ওপর বর্বরোচিত নির্যাতন করা হয়েছে। মেয়েটির শরীরের বিভিন্ন অংশে পোড়া দাগ ও ক্ষতের চিহ্ন রয়েছে। অভিযোগ পেয়ে স্বামী-স্ত্রী দুজনকে আটক করা হয়েছে। আটকের পর শারমিন রহমান অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে পুলিশি হেফাজতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন জেলা নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা সেলিমা আজাদ। তিনি বলেন, দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে এক শ্রেণির ধনী মানুষ পাশবিক আচরণ করেন, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। যাঁরা এ ধরনের অপরাধ করে, তাঁদের সাজা হওয়া উচিত।

এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার আহমার উজ্জামান বলেন, দুজনের নামে মামলা হয়েছে। তাঁদের আদালতে সোপর্দ করা হবে। পাশাপাশি নির্যাতনের শিকার মেয়েটির পরিবারকে পুলিশের পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করা হচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন