মামলায় বলা হয়েছে, শামসুল হকের ভাগনি কামনা খাতুন (২০) ছোটবেলা থেকেই নানাবাড়িতেই থাকেন। দুই বছর আগে কামনা খাতুনের সঙ্গে জাহিদ হাসানের বিয়ে হয়। কিন্তু অত্যাচার–নির্যাতনের কারণে কিছুদিন পরই কামনা ও জাহিদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। পরে জাহিদ ক্ষমা চেয়ে কামনাকে দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন। দ্বিতীয় বিয়ের পর নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। ফলে বাধ্য হয়ে কামনা আবারও জাহিদকে তালাক দেন। দ্বিতীয় দফায় তালাক দেওয়ার পর জাহিদ প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য বেলগাছিতে আসেন। গত ২৯ নভেম্বর শামসুল শেখ ঘরের বারান্দায় চৌকিতে শুয়ে ছিলেন। এ সময় জাহিদ সিরিঞ্জ দিয়ে শামসুল শেখের শরীরে বিষাক্ত দ্রব্য ঢুকিয়ে পালিয়ে যান।

শামসুল শেখ যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকলে স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ফাতেহ আকরাম বলেন, শামসুল শেখের ঘাড়ে ছিদ্র ছিল। তাঁর শরীরে বিষক্রিয়ার লক্ষণ দেখা গেছে। তবে কী কারণে ওই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে, সেটি এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

জানতে চাইলে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন জানান, গতকাল রাতে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ওই বৃদ্ধের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। এদিকে নিহত ব্যক্তির ছেলের করা মামলার একমাত্র আসামি জাহিদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার তাঁকে আদালতে নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন