বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ১১ নভেম্বর শরীয়তপুর সদরের তুলাসার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জাকিরের পরিবার আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে। এর জেরে ১৪ নভেম্বর বাচ্চু ব্যাপারী ও তাঁর সমর্থকেরা জাকিরের ভাই মেহেদী হাসানকে কুপিয়ে আহত করেন। এ ঘটনায় গতকাল সন্ধ্যায় জাকির হোসেন মামলা করার জন্য পালং মডেল থানায় যান। খবর পেয়ে বাচ্চু ব্যাপারী থানায় গিয়ে জাকিরকে ভয়ভীতি দেখান। পরে বাচ্চু ব্যাপারী তাঁর লোকজন নিয়ে থানার বাইরে অবস্থান নেন। রাত সাড়ে আটটার দিকে জাকির তাঁর ভাই মনিরকে নিয়ে রিকশাযোগে শহরের বটতলা মসজিদ মার্কেটে যান। সেখানে বাচ্চু ও তাঁর লোকজন তাঁদের দুই ভাইকে কুপিয়ে আহত করেন। এ সময় বাচ্চু ব্যাপারী জাকিরের ডান পায়ে গুলি করেন।

হামলার পরপর স্থানীয় লোকজন আহত জাকির ও মনিরকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাঁদের ঢাকায় নেওয়া হয়। বর্তমানে তাঁরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

আহত জাকিরকে ঢাকায় নেওয়ার পথে স্বজনেরা একটি ভিডিও ধারণ করেন। ওই ভিডিওতে জাকির হামলার বর্ণনা দেন। জাকিরের ভিডিওটি পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে জাকির বলেন, তাঁর ভাই মেহেদী হাসানকে মারধরের ঘটনায় থানায় মামলা না নেওয়ায় তিনি ঢাকায় গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। মন্ত্রীর পরামর্শে গতকাল তিনি মামলা করার জন্য পালং মডেল থানায় যান। এ সময় তাঁর সঙ্গে তাঁর বাবা, ভাই ও ভাগনে থানায় ছিলেন। তাঁরা থানার ডিউটি অফিসারের কক্ষে অবস্থান করছিলেন। এমন সময় বাচ্চু ব্যাপারী তাঁর লোকজন নিয়ে থানায় ঢুকে তাঁদের ভয়ভীতি দেখান।

এ সময় তিনি আতঙ্কিত হয়ে পুলিশ সুপারকে ফোন করে বলেন, ‘আমি ভয় পাচ্ছি, নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’ এরপর পুলিশ সুপার তাঁকে ওসির কাছে মামলা করতে বলেন। এ সময় তিনি তাঁর ভাই মনিরকে নিয়ে ফটোকপি করার জন্য বটতলা এলাকায় গেলে সাংসদ ইকবাল হোসেনের নির্দেশে বাচ্চু ব্যাপারীসহ কয়েকজন প্রকাশ্যে বন্দুক নিয়ে হামলা করেন। এরপর বাচ্চু ব্যাপারী তাঁকে গুলি করেন।

ভিডিওর এক অংশে জাকির কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘আমি যদি বেঁচে থাকি, তাহলে আপনাদের সঙ্গে দেখা হবে। আর যদি মারা যাই, আপনারা এ মৃত্যুর বিচার করবেন।’

default-image

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বাচ্চু ব্যাপারী মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, তিনি কোনো হামলার সঙ্গে জড়িত নন। তাঁর এলাকার কিছু মানুষকে জাকির কুপিয়ে আহত করেছিল। আহত ব্যক্তিরা এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন। ওই ঘটনার জেরে কেউ জাকিরের ওপর হামলা করতে পারে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাচ্চু ব্যাপারী শরীয়তপুর-১ আসনের সাংসদ ইকবাল হোসেনের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত। সাংসদ ইকবাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ মুহূর্তে ঢাকায় আছি। ঘটনার সময়ও শরীয়তপুরে ছিলাম না। তাই সেখানে কী ঘটেছিল, সেটা জানি না। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও দেখেছি। সেখানে আমার নাম জড়ানো হয়েছে। মুমূর্ষু মুহূর্তে কেন আমার নামে মিথ্যা কথা বলল, তা বুঝতে পারছি না।’

এদিকে জাকির হোসেনের মা মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘আমরা আওয়ামী লীগের রাজনীতি করি। নৌকার পক্ষে কাজ করায় আমার তিন সন্তানকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করতে চেয়েছে। কী অপরাধ আমাদের? পুলিশের সামনে হুমকি দেয়, হামলা করে। কার কাছে বিচার চাইব?’

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আক্তার হোসেন বলেন, মঙ্গলবার জাকির হোসেন যখন থানায় ছিলেন, তখন কাউন্সিলর বাচ্চু ব্যাপারীও একটি অভিযোগ দিতে থানায় এসেছিলেন। জাকির হোসেনের ওপর এভাবে হামলা চালানো হবে, সেটা তিনি বুঝতে পারেননি। তবে হামলার পর পুলিশ জাকিরকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন