বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গত মঙ্গলবার সকালে ঈদের নামাজ আদায় করে বাড়ি ফেরার পথে মজুমদারকান্দি গ্রামে প্রতিপক্ষের হামলায় কুদ্দুস ব্যাপারী নিহত হন। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও ওই ইউপির চেয়ারম্যান আবদুস সালাম হাওলাদারের সমর্থক ছিলেন। সালাম হাওলাদারের সঙ্গে ইউপি নির্বাচন ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হারুন অর রশিদ হাওলাদারের দীর্ঘদিনের বিরোধ। হামলাকারীরা হারুনের সমর্থক বলে অভিযোগ।

প্রত্যক্ষদর্শী, নিহতের পরিবার ও পুলিশ জানায়, শরীয়তপুর জেলা শহরের পাশেই চিতলিয়া ইউনিয়ন। মঙ্গলবার ঈদের দিন সকালে হারুন অর রশিদের সমর্থক ইমাম হোসেনের সঙ্গে আবদুস সালাম হাওলাদারের সমর্থক সৈয়দ সরদারের ঝগড়া হয়। ইমাম হোসেন তাঁদের সমর্থকদের খবর দেন। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি কুদ্দুস ব্যাপারী, সৈয়দ সরদার ও জয়নাল ব্যাপারী ঈদের নামাজ আদায় করে বাড়ি ফিরছিলেন। তখন ইমাম হোসেন তাঁর লোকজন নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা করেন। ওই তিনজনকে কুপিয়ে আহত করা হয়। উভয় পক্ষের লোকজন খবর পেয়ে সংঘর্ষে জড়ান। ওই তিনজন ছাড়াও সংঘর্ষ দুই পক্ষের আরও ২০ জন আহত হয়েছেন।

সালাম হাওলাদারের সঙ্গে ইউপি নির্বাচন ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হারুন অর রশিদ হাওলাদারের দীর্ঘদিনের বিরোধ। হামলাকারীরা হারুনের সমর্থক বলে অভিযোগ।

স্থানীয় লোকজন আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক বেলা একটার দিকে কুদ্দুস ব্যাপারীকে মৃত ঘোষণা করেন। অবস্থার অবনতি হলে সৈয়দ সরদার (৪০) ও জয়নাল ব্যাপারীকে (৭৫) উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। তাঁরা বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ মঙ্গলবার সদর হাসপাতাল চত্বর ও মজুমদারকান্দি গ্রাম থেকে পাঁচজনকে আটক করে। পরে তাঁদের মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

মজুমদারকান্দি গ্রামের তাসলিমা বেগম বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। আমার স্বামীর বয়স ৭০ বছর, ঢাকায় রংমিস্ত্রির সহকারীর কাজ করেন। ঈদে গ্রামে এসেছেন। মারামারিতে তাঁদের এক আত্মীয় আহত হলে তাঁকে হাসপাতালে দেখতে যান। সেখান থেকে পুলিশ তাঁকে আটক করেছে। এখন তাঁকেও হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে। পুলিশ আটক করতে পারে, মামলায় আসামি করা হতে পারে, এমন ভয়ে গ্রামের পুরুষেরা পালিয়েছেন। আমরাও আতঙ্কে আছি।’

মজুমদারকান্দি গ্রামের মাহমুদা আক্তার বলেন, ‘হত্যার ঘটনায় আমার স্বামী জড়িত নয়। তারপরও শত্রুতাবশত তাকে আসামি করা হয়েছে। বুধবার আমাদের ঘরের সব জিনিসপত্র লুট করে নেওয়া হয়েছে। এখন আমরা আতঙ্কে আছি।’

মামলার বাদী লিটন ব্যাপারী বলেন, ‘আমাদের গ্রামে দুটি দল। আমরা সালাম হাওলাদারের দল করি। এ কারণে হারুন হাওলাদারের দলের সমর্থকেরা আমার বাবাকে হত্যা করেছে। আমি এ হত্যার ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি চাই।’ লুটপাটের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের কোনো সমর্থক আসামিপক্ষের লোকজনের বাড়িঘরে লুট করেনি। তারা মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে আমাদের মামলা ভিন্ন খাতে নিতে চায়।’

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আক্তার হোসেন বলেন, কুদ্দুস হত্যা মামলার তদন্ত চলছে। এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা করা হচ্ছে। আসামিদের বাড়িঘরে লুটপাটের কিছু মৌখিক অভিযোগ এসেছে। তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন