বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাইফুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, সিরাজুল ইসলামের চোখে বড় ধরনের আঘাত রয়েছে। তাঁর চিকিৎসা শরীয়তপুরে সম্ভব নয়। তাই ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। চোখের ক্ষতটা গভীর। এ কারণে তাঁর ডান চোখটি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, আগামী ১১ নভেম্বর শরীয়তপুর সদরের রুদ্রকর ইউপিতে নির্বাচন হবে। ওই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সিরাজুল ইসলাম ঢালী, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাবীবুর রহমান ঢালী। গত ৩০ অক্টোবর শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ থেকে হাবীবুর রহমানকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, গতকাল রুদ্রকরের নয়াকান্দি এলাকায় গণসংযোগ করেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম। রাত সাড়ে ১০টার দিকে কর্মীদের নিয়ে তিনি সুবচনি বাজারে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আসেন। সেখানে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সহসভাপতি ফাহাদ হোসেন তপুর সঙ্গে কথা বলছিলেন। তখন রাত ১১টার দিকে ওই কার্যালয়ে ককটেল ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এ সময় আওয়ামী লীগের কার্যালয়, শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাঙচুর করা হয়। আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে লক্ষ্য করে ককটেল বোমা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এতে তাঁর ডান চোখে আঘাত লাগে। স্থানীয় নেতা-কর্মীরা তাঁকে উদ্ধার করে রাত সাড়ে ১১টার দিকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে রাতেই ঢাকায় পাঠানো হয়। ওই হামলার ঘটনায় সিরাজুল ইসলামের আরও ১৪ সমর্থক আহত হন।

শরীয়তপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হাবিবুর রহমান ঢালী তাঁর লোকজন নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সিরাজুল ইসলামের ওপর হামলা করেন। তাঁকে হত্যার জন্য ককটেল নিক্ষেপ করা হয়।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাবিবুর রহমান ঢালীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। খুদে বার্তা দিয়েও সাড়া মেলেনি। তবে তাঁর ভাই মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের জেলা সভাপতি সেলিম ঢালী বলেন, ‘আমাদের কোনো সমর্থক হামলা চালাননি। আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সমর্থকেরা নিজেরা এ কাজ করে আমাদের ওপর দায় চাপাচ্ছেন।’

সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী নিগার সুলতানা আজ শনিবার বলেন, ‘আমার স্বামীর চোখের অবস্থা ভালো নয়। ঢাকার একটি হাসপাতালে তাঁর চোখের অস্ত্রোপচার চলছে।’

শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আক্তার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী ও তাঁর সমর্থকেরা আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও কার্যালয়ে হামলা করেছেন—এমন অভিযোগ পেয়ে ছুটে যাই। পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। আর আওয়ামী লীগের প্রার্থীসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। হামলাকারীদের চিহ্নিত করে আটকের কাজ চলছে। এখনো থানায় কোনো মামলা হয়নি।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন