বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গোসাইরহাট থানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মেঘনা নদীর দুর্গম চর চরজালালপুর ও কাজীকান্দি গ্রাম। কাজীকান্দি গ্রামের বাসিন্দা ফারুক মালত বেকার জীবন যাপন করছিলেন। এলাকায় ভবঘুরে ও মাদকাসক্ত হিসেবে পরিচিত তিনি। মাঝেমধ্যে তিনি পরিবারের সদস্যদের মারধর করতেন। আজ সকালে মাঝেরচর এলাকার একটি বাড়িতে ঢুকে পড়েন ফারুক। ওই বাড়ি থেকে একটি ধারালো দা নিয়ে শামসুন্নাহার বেগম (৫০) নামের এক নারীকে কুপিয়ে আহত করেন। এ সময় তাঁকে বাধা দিতে এগিয়ে এলে রাহেলা বেগম (৬০), রজব আলী (৫০) ও ভানু বেগম (৬০) নামের আরও তিনজনকে কোপান তিনি। তখন আহত ব্যক্তিদের আত্মীয়স্বজন ও আশপাশের স্থানীয় বাসিন্দারা ফারুক মালতকে আটক করে এবং গাছের সঙ্গে বেঁধে গণপিটুনি দেয়। ঘটনাস্থলেই ফারুকের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে গোসাইরহাট থানা–পুলিশ ফারুকের লাশ উদ্ধার করে।

ফারুকের বাবা নাসির মালত প্রথম আলোকে বলেন, ‘ফারুক ভবঘুরে হয়ে গিয়েছিল। সে হঠাৎ করে কেন আজ সকালে মানুষের ওপর আক্রমণ করেছে, তা বুঝতে পারছি না। মানুষজন তাঁকে পিটিয়ে বেঁধে রাখে। আমরা বাঁচাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পারিনি। আল্লাহ হয়তো এভাবেই ওর কপালে মৃত্যু লিখে রেখেছিল।’

গোসাইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসলাম শিকদার প্রথম আলোকে বলেন, ফারুক মাদকাসক্ত ও মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। ওই এলাকার কয়েকজনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করেছেন। তখন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ফারুককে আটক করে গণপিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। গণপিটুনি দেওয়া আইন পরিপন্থী। তাই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে সাতজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। ওই যুবকের বাবা একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন