default-image

গত ২৪ ঘণ্টায় শরীয়তপুরে ৩১ ব্যক্তির দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দুজন চিকিৎসক, দুজন স্বাস্থ্যকর্মী ও চারজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন নারী চিকিৎসক, জেলা হাসপাতালের একজন চিকিৎসক, ট্রাফিক পুলিশের তিনজন কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের একজন কনস্টেবল সংক্রমিত হয়েছেন।

এর আগে পুলিশের আরও ১৫ সদস্য সংক্রমিত হন। তাঁরা পুলিশের তত্ত্বাবধানে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

শরীয়তপুরে গতকাল বুধবার রাত পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ৪১৩ জনের। যার মধ্য জুন মাসের ২৩ দিনে সংক্রমিত হয়েছেন ২৮৮ জন। সংক্রমিত ব্যক্তির সংখ্যা বাড়লেও রোগী শনাক্তের জন্য পরীক্ষা বাড়াতে পারেনি স্বাস্থ্য বিভাগ। স্বাস্থ্য সুরক্ষা না মেনে মানুষ অবাধে বাড়ির বাইরে বের হওয়ায় করোনার সংক্রমণ আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ।

শরীয়তপুর সিভিল সার্জন অফিসের রোগনিয়ন্ত্রণ বিভাগের চিকিৎসক আবদুর রশিদ প্রথম আলোকে বলেন, শরীয়তপুর জেলাটি অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। এখানে সামাজিকভাবে সংক্রমিত হচ্ছে। ঈদের সময় অধিক সংক্রমিত জেলাগুলো থেকে অনেক মানুষ এ জেলায় যাতায়াত করেছেন। যার প্রভাব এখন দেখা যাচ্ছে। আর শরীয়তপুরের হাটবাজার ও গণপরিবহনে মানুষ অনেক ভিড় করছেন। এ কারণে আরও সংক্রমণ বেড়ে যাবে। এমন পরিস্থিতিতে সংক্রমণ ঠেকাতে মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে, দূরত্ব বজায় রেখে চলতে হবে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, শরীয়তপুরে গত ১৩ এপ্রিল প্রথম চারজন করোনায় সংক্রমিত রোগীর সন্ধান পাওয়া যায়। এরপর এ সংখা বাড়তে থাকে। ৩১ মে পর্যন্ত জেলায় রোগী ছিল ১২৫ জন। আর সংক্রমিত ব্যক্তিদের জন্য মে মাসে পরীক্ষা করা হয় ২ হাজার ৩৬ জনের। তাতে ওই মাসে সংক্রমিত পাওয়া যায় ৯৬ জন। আর জুনের ২৩ দিনে পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয় ২ হাজার ৬৭ জনের। এই ২৩ দিনে সংক্রমিত হন ২৮৮ জন। জুন মাসে সুস্থ হয়ে স্বজনদের কাছে ফিরেছেন ১৪৭ জন। সংক্রমিত বেড়ে গেলেও নমুনা সংগ্রহ কম হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।

শরীয়তপুর শহরের পালং এলাকার এক বাসিন্দা সরকারি একটি দপ্তরে কর্মরত। তিনি বলেন, সপ্তাহে পাঁচ দিন অফিসে যেতে হয়। বাধ্য হয়ে ভিড়ের মধ্যে গণপরিবহন ব্যবহার করতে হচ্ছে। অফিসে সেবাপ্রার্থীদের সামলাতে হচ্ছে। এসব কারণে সব সময় উদ্বেগের মধ্যে থাকতে হচ্ছে।

শরীয়তপুরে সবচেয়ে বেশি সংক্রমিত হয়েছে সদর উপজেলায়। এ উপজেলায় সংক্রমিত হয়েছেন ১১৬ জন। যার মধ্য পৌর শহরে সংক্রমিত আছেন ৬৬ জন, জাজিরা উপজেলায় ৬৫, নড়িয়ায় ৭৪, ভেদরগঞ্জে ৭০, গোসাইরহাটে ৫০ ও ডামুড্যায় ৩৮ জন। জেলায় এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ২০১ জন। আর মারা গেছেন পাঁচজন।

জানতে চাইলে সিভিল সার্জন এস এম আবদুল্লাহ আল মুরাদ প্রথম আলোকে জানান, সব মানুষকে সচেতন থাকতে হবে। স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে চলতে হবে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0